Home / লাইফ স্টাইল / ওজন কমাতে যেভাবে খাবেন তোকমা দানা

ওজন কমাতে যেভাবে খাবেন তোকমা দানা

ওজন কমাতে যেভাবে – তোকমার বৈজ্ঞানিক নাম Hyptis suaveolens, একে বিলাতি তুলসি নামেও ডাকা হয় স্থানীয় ভাষায়। স্বাস্থ্য রক্ষায় মূলত ব্যবহার করা হয় তোকমা গাছের বীজ। এই বীজ দিয়ে শরবত তৈরি সহ নানান উপায়ে খাওয়া হয় ভেষজ গুণাবলি পেতে, গুঁড়ো করে ব্যবহার করা যায় রূপচর্চাতেও।

বিশেষ করে ওজন কমাতে দারুণ উপকারী তোকমার বীজ। এই বীজ দ্বারা তৈরি শরবত বিপাকক্রিয়ার হার কমায়, অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তে ভালো কোলেস্টরল তৈরি করে। আর তাই বাড়তি ওজন হটিয়ে শরীরকে সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে তোকমা অন্যতম কার্যকরী ভেষজ উপাদান।

যেভাবে পান করবেন তোকমার বীজঃ

-১ টেবিল চামচ পরিমাণ তোকমার বীজ এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।-ছোট ছোট কালো দানার বীজগুলো সারারাত ভিজে ফুলে উঠবে।-সকালে এই পানি ফুলে ওঠা তোকমা বীজ সহ পান করে নিন খালি পেটে। সাথে ১ চা চামচ খাঁটি মধু যোগ করতে পারেন।

তোকমার এই শরবত সারাদিন আপনার মেটাবোলিজম বা বিপাক ক্রিয়ার হার বেশি রাখবে, ফলে খাবার ভালোভাবে হজম হবে ও বাড়তি ক্যালোরি জমে থাকবে না। এছাড়াও অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করবে তোকমা। নিয়মিত তোকমার শরবত পান করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাবার অভ্যাস ত্যাগ করলে বিনা পরিশ্রমেই দেহ হবে ছিপছিপে। বিশেষ করে মেদ ভুঁড়ির সমস্যা একেবারেই চলে যাবে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যাও উপশম হবে।

ওজন কমানো ছাড়াও তোকমার শরবত হতে যে উপকারগুলো পাওয়া যাবে– গরম কালে তোকমার শরবত ভেতর থেকে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।– তোকমা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকে।– নিয়মিত তোকমার শরবত সেবন করলে ঠাণ্ডা ও মৌসুমি জ্বরের সমস্যা হয় না।– তোকমা লিভারকে ভালো রাখে।

সতর্কতা-গর্ভবতী নারী ও শিশুরা চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত তোকমা সেবন করবেন না।-তোকমা অবশ্যই ৭/৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর ফুলে উঠলে তারপর সেবন করুন। ঠিক মত ফুলে না উঠলে পেটে ব্যথার কারণ হতে পারে।

যারা স্বাস্থ্যসচেতন তাদের কাছে তোকমা দানা বেশ পরিচিত। ফালুদা তৈরিতে এবং বিভিন্ন ফলের জুসে তোকমা দানা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তোকমা দানা প্রচুর পুষ্টি ও মিনারেল সমৃদ্ধ। ছোট ডিম্বাকৃতির নরম বীজটি `সালভিয়া হিসপানিকা` নামেও পরিচিত। বাদামি, কালো, সাদা বিভিন্ন রঙয়ের হয়ে থাকে এই তোকমা।

এক কাপ পরিমাণ তোকমা দানা থেকে প্রতিদিন আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ম্যাংগানিজের ৩০%, ক্যালসিয়ামের ১৮% পাওয়া যায়। প্রতি একশ গ্রাম তোকমা দানায় ভিটামিন-বি, ফোলেইট, ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ, থিয়ামিন, দস্তা, ফসফরাস, পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ এবং রিবোফ্ল্যাভিন রয়েছে।

চমৎকার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার তোকমা দানা। দীর্ঘক্ষণ নিজেকে ক্ষুধামুক্ত রাখতে চাইলে বাদাম, শুকনো ফল আর এক মুঠো তোকমা দানা মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি অসময়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা, ক্ষুধা দমন, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত রাখে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানান, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প পরিমাণ তোকমা দানা রাখলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপাক প্রক্রিয়াও বৃদ্ধি করে থাকে। তোকমার পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি একশ গ্রাম তোকমাতে থাকে প্রায় চল্লিশ গ্রাম আঁশ।

পেটের প্রদাহ, পীড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সহ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে এই তোকমা। শরীরের জন্য খুবই দরকারী একটি উপাদান ওমেগা-৩। আর তোকমা দানা হচ্ছে এই উদ্ভিদভিত্তিক ওমেগা অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস।

তোকমা দানা শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। আর এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ, ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ এবং বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে থাকে। তোকমা দানায় হাইড্রোফোলিক উপাদান থাকায় খুব সহজে পানি শোষণ করে। এটি ওজনের চেয়ে প্রায় বারোগুণ বেশি পানি শোষণ করতে সমর্থ।

সম্প্রতি কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, তোকমা দানা দেহের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল উৎপাদন করে থাকে। এছাড়াও রক্তে চর্বির পরিমাণ কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট সুস্থ এবং হাড় গঠনে সাহায্য করে থাকে গুণে ভরা এই তোকমা।