নারী পুরুষের বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে অসাধারন একটি লেখা, না পড়লে বূঝা যাবে না

নারী পুরুষের মিলন- নারী পুরুষের মিলন একদিকে জৈবিক চাহিদা, অন্যদিকে জীবের বংশ বৃদ্ধির মাধ্যম। প্রজনন প্রক্রিয়া না থাকলে জীবের বংশ বৃদ্ধি ঘটবে না।

সন্তান সৃষ্টিকর্তার দেয়া উপহার। মিলনের পর সন্তানধারণ ও জন্ম দেয়ার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা শুধুমাত্র স্ত্রীজীবকে দিয়েছেন।মানুষের ক্ষেত্রে নয় মাস দশ দিন গর্ভে ধারন করার পর বাচ্চার ভূমিষ্ট হবার সময় হয়। এই দীর্ঘ সময় একটা মেয়ে কীভাবে কাটায় তা কোনো পুরুষ বিন্দু পরিমাণ অনুধাবন করতে পারবে না।

এই অংশটুকু বাদ দিয়ে মানুষের বাকী সব অনুভূতি নারী পুরুষের একই রকম। যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, বস্ত্র, বাসস্থান, অসুখ বিসুখ, সামাজিক মর্যাদা এক কথায় শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন ধরনের চাহিদা।

কিন্তু সন্তান গর্ভে ধারন করা ও জন্ম দেয়ার অনুভূতিটা শুধু নারীরই থাকে। হ্যাঁ, পুরুষদের ক্ষেত্রে মানসিক অনুভূতি কাজ করে, যেমন -আমি বাবা।

পৃথিবীর আলো দেখার পর শিশুটি অবাক হয়ে কান্না জুড়ে দেয়, ওর মাও কিন্তু কাঁদে। অবশ্য আমি কয়েকজন ভাইকে বাবা হবার আনন্দে কাঁদতে দেখেছি।

মা যখন নিজের বাচ্চাকে প্রথম কোলে নেয় তখন মনে হয় “এই স্বর্গীয় ফুলটা আমার গর্ভে ছিল? কী আশ্চর্য! ” মা হবার আগে কোনো মেয়ে এত অবাক কখনও হয় না অথচ সে জানে প্রতি মিনিটে কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ মা হচ্ছে।

আপনারা পুরুষেরা বিশ্বাস করতে পারবেন না, যখন মেয়েরা গর্ভবতী হয়, তখন লক্ষ কোটি চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, শারীরিক যে অস্বস্তি হয় তা ব্যাখ্যা করে বোঝানো যাবে না।

ক্ষুধা আছে খেতে পারছেন না ভেবে দেখুন কেমন লাগে। সারাক্ষণ গা গুলাচ্ছে যে কোনো সময় বমি হবে ভাবুন কেমন কষ্ট। প্রথম তিন মাস ভ্রুণটি বাচ্চাথলিতে তীব্র বেগে ঘুরতে থাকে, ফলে মাথা গা সারাক্ষণ গুলাতে থাকে। আস্তে আস্তে স্বর্গীয় ফুলটি শান্ত হয়। তখন হবুমাও কিছুটা স্বস্তি পায়।

এমন হাজারো অনুভূতি আছে সন্তান ভূমিষ্ট হবার আগ পর্যন্ত। আছে ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে, সুস্থ হবে নাকি অসুস্থ হবে এসব দুঃশ্চিন্তা।

“হে ঈশ্বর, এবনরমাল শিশু যেন না হয়।” যার ঘরে ছেলে নেই সে ছেলেসন্তান চায়, যার ঘরে মেয়ে নেই সে মেয়েসন্তান চায়। অনেক স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ির বক্তব্য থাকে ” হারামজাদী, এইবার যদি তোর বেটি হয় তো কপালে সতীন আছে।” এমন অনেক ভাবনা।

আপনারা পুরুষেরা কোনোদিন বুঝতে পারবেন না, সন্তান ভূমিষ্ট হবার কাছাকাছি সময়ে মেয়েরা আর একটা পরীক্ষার মধ্যে পড়ে। সেটা হলো “জন্ম দেয়ার সময় আমি বাঁচব তো। হে সৃষ্টিকর্তা যদি কঠিন মুহুর্ত আসে তবে আমার সন্তানকে বাঁচিও। আমি মরে গেলে কোনো সমস্যা নেই, সন্তান যেনো বেঁচে থাকে।”

এই প্রার্থনা প্রতি মা-ই করে এবং করবে। অথচ কোনো মা এই প্রার্থনা মুখ ফুটে বলেছে কিনা আমার জানা নেই। অবশ্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাবার আগে যদি স্বামীকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি মাকে চান নাকি সন্তানকে” সে স্বামীও হয়ত হকচকিয়ে যাবে, কার কথা বলবে বউ নাকি বাচ্চা!

জীনব মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে নারী পৃথিবীতে মানব জাতিকে টিকিয়ে রাখছে ( অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়), সে নারীর কত দোষ তাই না?