Home / খেলাধুলা / ম্যাচ শুরুর আগেই যে সাতটি প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দিলেন মাশরাফি । না জানলে মিস করবেন

ম্যাচ শুরুর আগেই যে সাতটি প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দিলেন মাশরাফি । না জানলে মিস করবেন

আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সে লক্ষে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মতুর্জা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। যেখানে উঠে এসেছে পুরো ম্যাচের প্লানিং সহ সার্বিক বিষয়। পুরো সংবাদ সম্মেলনের পর্বটি বিডি২৪রিপোর্টের পাঠকদের জন্য সম্পুর্ন তুলে ধরা হল।

সিরিজের চ্যালেঞ্জটা কী?
চ্যালেঞ্জটা প্রতি ম্যাচে যেটা থাকে সেটাই। সবার প্রত্যাশা, আমরা জিতব এবং জেতার আশাই করছে সবাই। সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, অন্য দলের সাথে যেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে খেলেছি, গত এশিয়া কাপে যেভাবে খেলেছি, সেটাই থাকবে। আর ওদের প্রায় সব সিনিয়র প্লেয়াররা কাম ব্যাক করেছে। আর ব্জিম্বাবুয়ে দলের নিজেদের মাটিতে সবচেয়ে ভাল রেকর্ড বাংলাদেশেই। সুতরাং আমাদের ১০০ ভাগ দিয়েই খেলতে হবে। হয়তো জিতলে সবাই বলবে, এটাই হওয়ার কথা ছিল। হারলে কিন্তু ভিন্ন কথা হবে, এটাই স্বাভাবিক।

কম্বিনেশন কেমন হবে?
এশিয়া কাপে যেটা হয়েছে, দলের ওপর দিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা গিয়েছে। এক এক ম্যাচে এক একজন করে অসুস্থ হচ্ছিল। দুজন তো টিম দলে বের হয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল, এটাও আপনারা জানেন। ইনজুরির দিক থেকে একটা জায়গা নিয়ে চিন্তা আছে। এছাড়া চেষ্টা থাকবে, সেরা দলটাই গড়া। আর যে কোন সিরিজের প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই, কিছু নতুন প্লেয়াররা দলে নেয়া হয়েছে। সামনে বিশ্বকাপকে চিন্তা করে। তাদের দেখে নেয়ার এটাই সুযোগ। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। একই সাথে ম্যাচ জেতাটাও খুব গুরুত্বর্পূণ।

এশিয়া কাপের হাই ইন্টেন্স ক্রিকেটের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এমন সিরিজে দলকে ইন্সপায়ার করার ফর্মুলা কী?
এশিয়া কাপে ওদের দুইজনকে ছাড়া যেভাবে যেই ধরনের ক্রিকেট খেলে এসেছি, এরপর এই ধরনের সিরিজ খেললে এবং খারাপ হলে অনেক কথা ওঠে। ব্যাক অব দ্য মাইন্ডে কিন্তু এই একটা কথাই চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আমার মতে, ওই জায়গাটায় কাজ করা প্রয়োজন। জিম্বাবুয়ের কাছে এমন না যে আমরা কখনো হারি নি বা হারতে পারব না, এমন কিছু না। ওদের যেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে, এখানে একজন ক্রিকেটার যদি সেঞ্চুরি করে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একশ হিসেবেই গণ্য হবে, কেউ যদি পাঁচ উইকেট পায় তাহলে পাঁচ উইকেটই গণ্য করা হবে। এইগুলো যেকোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি না কেন, এইগুলো করা কিন্তু কঠিন। প্লেয়ারদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে বুস্ট আপ করা জরুরি। আর আমার কথা যদি বলেন, আমি বলব আমাদের জন্য এই সিরিজটাও গ্ররুত্বর্পূণ। বিশ্বকাপের আগে এমন চারটি সিরিজ আছে খেলার মত, আর্ন্তজাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি করার জন্য। আর আমদের জন্যও ভালো হয়েছে। ওরা ওদের সেরা দলটা পাঠিয়েছে।

কেমন উইকেটের প্রত্যাশা?
মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা খুবই কঠিন, আমরা সবাই জানি। মিরপুরের উইকেট ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন হবে। তবে প্রত্যাশা তো অবশ্যই করছি, সাধারণত ২৫০-২৬০ রান হলে ম্যাচ ভাল হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে, টার্ন হবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভাল উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভাল উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা একটু কঠিন।
পেসারদের প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য কী স্পিনে জিম্বাবুয়েকে ঘায়েল করার প্রাগৈতিহাসিক পরিকল্পনা থেকে বের করবে?

বাংলাদেশ দলকে শেষ তিন চার বছর অবশ্যই কাছে থেকে দেখেছেন। আমরা ৯৯% সময় তিন জন ফাস্ট বোলারকে ব্যাক আপ করেছি, যে কোন অবস্থায় ও যে কোন উইকেটে। আমরা পেস বোলিংকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছি। আর আমাদের পেস বোলিং বিভাগ ভাল করছেও। খারাপও করেছে, কিন্তু ভালোর সংখ্যাটা বেশি এবং ম্যাচ উইনিং পারফর্মেন্স অনেক আছে। আমরা অবশ্যই ওই জায়গায়াতেই আছি। আমরা যতদূর সম্ভব, এটা ব্যাক আপ করেই যাব। একই সাথে উপমহাদেশ ও মিরপুরের উইকেটে স্পিনের বড় ভূমিকা থাকে। আমরা স্পিন দিয়ে তাদেরকে এর আগে অনেক সময় অল আউট করেছি। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে এবং থাকবে। একই সাথে আমরা পেস বোলারদের ফ্ল্যাট উইকেট বলে, সিমিং উইকেট বলেন, সব জায়গায় আমরা ব্যাক আপ দিয়েছি। সেটা দিয়ে যেতে চাই।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আপনার নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা আছে। তার বাস্তবায়ন কি এই সিরিজ থেকেই?
আল্লাহ যদি সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন, আমাদের কিছু প্লেয়ার আছে আপনার তাদের জায়গা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ নেই সেখানে। নাম বললে হয়তো বা সাকিব, মুশফিক, তামিম, রিয়াদের ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের চিন্তা করার সুযোগ কম। একই সঙ্গে মোস্তাফিজ আছে, লিটন আছে; এরাও ভাল করছে।

তবে একটি কথা আগেও বলেছি ব্যাকআপ প্লেয়ার আমাদের অনেক শট্র্। বিশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করার মতো ব্যাকআপ প্লেয়ার আমাদের খুব কম। এখন আস্তে আস্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে শক্তিশালী হচ্ছে বা ক্রিকেটাররাও নিজে থেকে খেলতে চাচ্ছে। এরকম খেলতে থাকলে সুযোগ তৈরী হবে এবং ব্যাকিআপ প্লেয়ার তাড়াতাড়ি চলে আসবে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি কিছু পজিশন আছে সেখানে বিশ্বকাপের কথা যদি চিন্তা করি সাইফউদ্দীন অবশ্যই সেটা। ফজলে রাব্বিও অবশ্যই সেটা। কারণ সাকিবের যদি আল্লাহ না করুক সমস্যা হয়ে যায়, এখনও সমস্যায় আছে। তো কাউকে না কাউকে লেফ্ট হ্যান্ড স্পিন ও ব্যাটসম্যান আমাদের চিন্তা করতে হতে পারে। এই ছোট ছোট জায়গাগুলো। অবশ্য এত কম সময়ে সেটাও না। কিন্তু সুযোগগুলো আমাদের দেখতে হবে, নিতে হবে। সেই সব জায়গা চিন্তা করেই কিন্তু এরা ১৫ সদস্যে এসেছে। একই সময়ে এটাও ঠিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো হারা যাবে না। সো আমাদের আরো হিসেবি হতে হবে। ফার্স্ট এলিভেন সেভাবেই সেট করতে হবে। আস্তে আস্তে একজন দুইজন করে হয়তো বা আমাদের দেখতে হবে।

দলে কার কার ইনজুরি? কেমন আছে সবাই?
ধরেন আমার ক্ষেত্রে আমি একটা ফরম্যাটে খেলি সো আমাকে ওভাবেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হয়। টুকটাক সমস্যা হলেও খেলি। কারণ আমি তো সব ফরম্যাটে খেলি না। আমাকে পরের সিরিজের চিন্তা করলে সবসময়ই সব সিরিজটা খেলা গুরত্বপূর্ণ এভাবে ভাবতে হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তারা সব ফরম্যাট খেলে। কেউ যদি টিমে না থাকে সে ফোর ডেও খেলতে পারবে। সেটা আমার ক্ষেত্রে হয় না। আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও অনুশীলনের ওপর র্নিভর করতে হয়। চোটের কথা বললে আল্লাহ রহমতে ভালোর দিকে আছি। মুশফিকও ভাল ফিল করছে। রবেলেরটা যেটা হচ্ছে ও হাসপাতাল থেকে এসেছে কালকে। রিকভারির ব্যাপার। গায়ে জ্বর ছিলো, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে। ওরটা ফিজিও ক্লোজ লুক করছে, শেষ পর্যন্ত কি অবস্থা হয় বলা যায় না। আর এছাড়া টিমের সবাই ভাল অবস্থায় আছে। আর যে দুজন নেই,তারা তো অনেক আগে থেকেই নেই।

মিরপুরের আনপ্রেডিকটেবল উইকেট-
প্রথমত মিরপুরের উইকেট যেটাৃ আমি ধন্যবাদ দিব আমাদের যারা প্লেয়ার আছে। এটা কিন্তু আমরাও বিশ্বাস করি মিরপুরের উইকেট আনপ্রেডিকটেবল। কি জন্য? হঠাৎ করেই আচরণ বদলে ফেলে। আপনারাও দেখেছেন হঠাৎ করে টার্ন বা বল নিচু হয়ে আসছে। তখন কিন্তু যারা ব্যাটিং করছে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ব্ইারে যারা থাকে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হয়। আনপ্রেডিকেটেবল হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ বেশিরভাগ সিনিয়র প্লেয়াররাই ১০ বছর যাবত এই উইকেটে খেলছে। তো এই জায়গায় আমরা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যারা খেলছে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি দেখেন একক্ষেত্রে সুবিধাও থাকে। আচরণ যখন বদলাতে থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিন হয়। আমরা যখন ২০১৫ থেকে জেতা শুরু করেছি তখন থেকে আমার বিশ্বাস এই মাঠে আমাদের রেকর্ড ভাল। আনলেস অর আনটিল মেন্টালিল কিছুটা দুর্বলতার কারনে আমরা হেরে গিয়েছি। চিটাগংয়ে যেটা হয় নরমালি আমরা জানি ব্যাটিং উইকেট হবে, ভাল উইকেট হয়। বাট আমি নিশ্চিত আমাদের ছেলেরা এতদিন খেলার পরে এমন কোন অজুহাত না দেয়াই উচিত। তবে একটা মাইন্ডসেট আপ থাকা যেটা আগেও বললাম ২৫০-২৬০ করলে ওদের জন্য কঠিন হবে। এটাই আরকি।