Home / স্বাস্থ্য টিপস / হৃদরোগীরা কী খাবেন, কতটুকু খাবেন

হৃদরোগীরা কী খাবেন, কতটুকু খাবেন

মানুষের জীবনের একটি মূল অংশ হলো ভোজ, আর যেকোনো উৎসবে খাওয়ার আতিশয্যকে মানুষ তখন প্রশয় দেন। এতে আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে অতিভোজ হয়ে যায়, অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টিমণ্ডা ও চর্বি থেকে গ্রহণ থেকে। এসবের বাহুল্য ঘটে দিনে-রাতের ভোজে, এতে শরীরের ওজন বাড়ে। উৎসবে রয়ে সয়ে খেলে বাঁচে শরীর। যাদের ডায়াবেটিস হৃদরোগ ও কিডনি রোগ আছে, তারা তো বিশেষ সাবধান হবেনই। উৎসবের ছোঁয়া লাগানোর জন্য সামান্য খাবার খাওয়া যেতেই পারে। বেশি হলে স্বাস্থ্য তো ঝুঁকির মুখে পড়বে। শরীর যাতে ভালো থাকে উৎসবের দিনে সেজন্যও আছে পরামর্শ।

ভোজে যাওয়ার আগে বাড়িতে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খেয়ে তবে বের হবেন। পেটে ক্ষুধা থাকলে বেশি বেশি খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। স্বাস্থ্যকর নয় এমন সব খাবার প্রশ্রয় দেয়ায় মনের ইচ্ছা তুঙ্গে ওঠে। সুবুদ্ধিসম্পন্ন আহার কী বলবেন? ঝবহংরনষব ঊধঃরহম সঙ্গত আহার, ভোজন? গোশতের রেজালা, ভুনা, পোলাও সামনে আছে, সেই সাথে সালাদ ও বোরহানি আছে। সালাদ, স্যুপ ও বোরহানি বেশি করে খেয়ে দুয়েক টুকরো গোশত সামান্য পোলাও খাওয়া তাই তো ভালো। নিয়ম রক্ষা হলো মান বাঁচল, স্বাস্থ্যও বাঁচল। আরেকটি কথা, উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ব্যায়াম কিন্তু চালিয়ে যেতেই হবে। বাড়তি ক্যালরি কিছু হলেও ঝরে পড়ার সুযোগ পাবে।

ভোজে যাওয়ার আগে ফলাহার করে, এক মুঠো বাদাম খেয়ে বেরোলে তেমন ভোজ করতে পারবেন না। ব্যায়ামের কর্মসূচি বিরতি টানা একেবারে অনুচিত হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, এমনকি ভ্রমণের সময়ও শরীরচর্চা চলবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। ভোজের সময় হাতের কাছে পানির বোতল থাকতেই হবে। শরবত, কোমল পানীয় ড্রিঙ্কস এসব বর্জন করলে ভালো। এতে আবশ্যক ক্যালরি যোগ হবে শরীরে, শুনতে কেমন লাগবে জানি না, তবু বলি, মিষ্টি আর চকোলেটের প্যাকেট উপহার না দিয়ে ফল ও বাদামের প্যাকেট উপহার দিলে বেশ স্বাস্থ্যকর হয় কিন্তু এমন চর্চা শুরু করতে পারেন না কেউ? স্বাস্থ্যকর আহারের চর্চা উৎসাহিত করা উচিত, কেবল রোগীকে দেখার সময় ফল হাতে নিয়ে না।

ভোজে যোগদান করলে খাবার টেবিলে গেলে খাওয়াতে বিরতি দিতে হবে গোশত, চর্বি, ঘি ও ভাত কম খেতে হবে। এমন যদি কেউ থাকেন আর তিনি যদি বিবাহিত হন, তাহলে জীবনসঙ্গী সাহায্য করতে পারেন, কী দেখলে লোভ উথলে ওঠে তা তিনি জানবেন এবং ধরুন জামার বোতাম টেনে ধরে বা খোঁচা মেরে নিবৃত্ত করতে পারে, তখন খাওয়া বন্ধ হবে।

উৎসবে অনুষ্ঠানে যেসব খাবার দেয়া হয় এর কয়েকটির মধ্যে লুকিয়ে আছে যে পরিমাণ ক্যালরি তেমন উদাহরণ দেই। এক কাপ চা, দুই চা চামচ ঘন দুধ ও দুই চা চামচ চিনি, ব্যস ৭০ ক্যালরি পান করা হয়ে গেল। কোমল পানীয় (৩৫০ মিলিমিটার ১৪৫ ক্যালরি, টমেটো জুস (১০০ মিলি) ৪০ ক্যালরি, কমলা জুস (১০০ মিলি) ৬১ ক্যালরি।
একটি বড় সমুসা ২১০ ক্যালরি। আইসক্রিম (১০০ গ্রাম ছোট ক্যান) ২০০ ক্যালরি, গোলাপ জাম (দুটো ছোট) ২৮০ ক্যালরি। দু’টি রসগোল্লা ১১০ ক্যালরি, একটি পরোটা ১৮০ ক্যালরি, কাবাব চারটি ৩০৮ ক্যালরি।

বিরিয়ানি গোশত এসবের ক্যালরি আর গুনে দেখলাম না। অনেক যে হবে তা বোধগম্য। তাই বলছিলাম রয়ে সয়ে খেলে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা যাবে। অনেকে ভোজের সময় বেশি খাওয়ার জন্য আগের বেলা না খেয়ে থাকেন, এটি কিন্তু ঠিক নয়। কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে হিতের চেয়ে বিপরীত হবে। এতে ভোজের সময় প্রচুর খাওয়া হবে। হালকা প্রাতরাশ স্ন্যাকস চলুক। খেতে হবে সচেতনভাবে, কেবল ক্ষুধা পেলেই খেতে হয় মন খারাপ হলে বেশি খাওয়া হয়। প্লেটে থাকুক সবজি-সালাদ, ফলের টুকরো ও দধি। অল্প গোশত বিরিয়ানি হবে। এভাবেই চলবে উৎসব। সগৌরবে। স্বাস্থ্য থাকবে ভালো।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ, মানিকগঞ্জ চেম্বার : কেসি হাসপাতাল,
দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা।