Home / সংবাদ / কোচিং ছাড়াই বুয়েটে চান্স, ভর্তির টাকা নেই তুহিনের

কোচিং ছাড়াই বুয়েটে চান্স, ভর্তির টাকা নেই তুহিনের

কোচিং ছাড়াই বুয়েটে চান্স- প্রাইভেট কিংবা কোচিং করতে হয়নি তাকে। ঘরে পড়ার কোন টেবিলও নেই। বাঁশের খুঁটির ওপর তক্তা দিয়ে রাখা হয়েছে বই। এটাই তার পড়ার জায়গা।

বাবা মানসিক প্রতিবন্ধি মায়ের ওপরই টেনেটুনে চলছে সংসার। অভাবের এই সংসারে থেকেই এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তুহিন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন তুহিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ৩৮৩ তম হয়েছেন তিনি। আর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় ৬৪৫তম হয়েছেন তিনি। তবে অর্থের অভাবে বুয়েটে ভর্তি হতে পারছেন না তুহিন।

তুহিনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘার মানিগ্রামে। মা লতিফা বেগম বলেন, তাদের এক মেয়ে দুই ছেলে। তুহিন বরাবরই পড়াশোনায় ভালো। তার কখনও প্রাইভেট কিংবা কোচিং করতে হয়নি। শিক্ষকরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা কোথায় পাব এনিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বুয়েটে চান্স পাওয়া তুহিনের পড়ার দায়িত্ব নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রাইভেট কিংবা কোচিং করতে হয়নি তাকে। ঘরে পড়ার কোন টেবিলও নেই। বাঁশের খুঁটির ওপর তক্তা দিয়ে রাখা হয়েছে বই। এটাই তার পড়ার জায়গা। বাবা মানসিক প্রতিবন্ধি মায়ের ওপরই টেনেটুনে চলছে সংসার। অভাবের এই সংসারে থেকেই এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তুহিন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন তুহিন।

দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেও যে ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায় তার এক জ্বলন্ত উদাহারণ এ প্রজম্মের উজ্জল নক্ষত্র তুহিন মাহমুদ। ইতিমধ্যে বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে সে। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভর্তিসহ পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার খরচ।

এ খবর শুনে তুহিনের পড়া লেখার দায়িত্ব নিয়েছেন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও চারঘাট-বাঘা আসনের এমপি আলহাজ শাহরিয়ার আলম।

তুহিনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিক গ্রামে। তার বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী। মা-এবং তুহিন মিলে অতিকষ্টে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তুহিনের ইচ্ছে লেখাপড়া করে একজন আদর্শ মানুষ হবে।

সেই স্বপ্নকে কাজে লাগিয়ে এসএসসি এবং এইসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে তুহিন। সর্বশেষ এ বছর বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে ভর্তি না হওয়ার সংবাদ ছাপা হয় একটি জাতীয় দৈনিকে।

খবরটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেই খবরে দৃষ্টি পড়ে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ শাহরিয়ার আলমের। তিনি তাৎক্ষণাত ঘোষণা দেন এখন থেকে তুহিন মাহমুদের পড়ালেখার যাবতীয় দায়িত্ব তার।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থী তুহিনের পড়ালেখার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আন্তরিক ছিলেন। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ তুহিনের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এই খবর শুনে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসকসহ তুহিনের বাবা-মা।

তুহিনের মা লতিফা বেগম বলেন, তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে। সবার বড়ো মেয়েটা। দুই ছেলের মধ্যে তুহিন বড়ো। তুহিন বরাবর পড়াশোনায় ভালো। কখনো প্রাইভেট বা কোচিং করাতে হয়নি। বাঁশের খুঁটির ওপর কাঠের তক্তা দিয়ে তার উপর বই রেখে সে পড়ালেখা করে আসছে।

তুহিনের পড়া-লেখার যাবতীয় দায়িত্ব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়েছেন শুনে লতিফা বেগম বলেন, আমাদের মন্ত্রী অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমার ছেলের মুখে শুনেছি, তিনি নাকি তার সম্মানী ভাতার সম্পুর্ণ অর্থ শিক্ষাখাতে ব্যায় করেন। আমি তার জন্য আল্লাহপাকের কাছে নামাজান্তে দোয়া করবো। বিধাতা যেন আমাদের মন্ত্রীকে সব সময় ভালো রাখেন।

ঢাবিতে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আহমেদ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের শালচূড়া গ্রামের অতিদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী আহমেদ হোসেন এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তার এ সাফল্যেও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন আহমেদ হোসেনের পরিবার।

অতি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এ শিক্ষার্থীর পক্ষে ঢাবিতে ভর্তির জন্য ২৫ হাজার টাকা জোগার কার সম্ভব নয়। এদিকে আগামি ৭ নভেম্বর ভর্তির শেষ দিন। তাই ভর্তির টাকা সংগ্রহের জন্য তিনি এখন চরম দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মেধাবী আহমেদ হোসেন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

আহমেদের বাবা সিদ্দিকুর রহমান একজন মোটর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তাঁর রোজগারের কোন ক্ষমতা নেই। বাড়ি-ভিটার ১০ শতাংশ জমি ছাড়া সিদ্দিকুরের কোন ধানি জমিও নেই।

তাই আহমেদের মা জয়নব বেগম বাড়ির পাঁচ শতাংশ জমিতে নার্সারি (গাছের চারার বাগান) করে যে সামান্য উপার্জন করেন তা দিয়েই সংসার চালান। মায়ের এই কাজে ছোট বেলা থেকেই সাহায্য করছেন বড় ছেলে আহমেদ হোসেন।

আহমেদের ছোট ভাই জাহিদ হাসান ও বোন শিলামণি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে যথাক্রমে অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। আর্থিক-অনটনের কারণে আহমেদ মাঝে-মধ্যে প্রাইভেট টিউশনি করে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার খরচ চালিয়েছেন।

ঝিনাইগাতীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শাহিন মিয়াও আহমেদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছেন। মেধাবী ছাত্র আহমেদ হোসেন ২০১৬ ও ২০১৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। মেধা তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৭০। ফলে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। একটি ভাল বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও তিনি শংকায় রয়েছেন।

আগামি ৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ দিন। ভর্তির জন্য প্রয়োজন ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু অসুস্থ দরিদ্র পিতা আর অসহায় মায়ের পক্ষে ছেলে আহমেদের ভর্তি বাবদ এত টাকা প্রদান করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই তিনি (আহমেদ) সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তাঁর ভর্তির টাকা জোগার করতে।

আহমেদ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির মাধ্যমে দেশ ও জাতির সেবা করতে চান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারলে তাঁর সে স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাঁকে হয়তো জীবিকার তাগিদে বাড়ি ফিরে আসতে হবে।

আহমেদ হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে পড়ালেখা করে বড় হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করবো। সেইসঙ্গে ভাল চাকরি করে সংসারের অভাব দূর আর আমার মতো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা করবো। কিন্ত শুধু অর্থাভাবে আমার স্বপ্নের চূড়ান্ত পর্বে এসে আটকে গেলাম।

এসময় তিনি আরো জানান, আমাকে যদি সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেন তাহলে আমার সে স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হব। চিরঋণী থাকবো সবার কাছে।’ আহমেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল নম্বর: ০১৯৯৫১৭০৩৫৬।