তারেকের হাওয়া ভবন নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

হাওয়া ভবন নিয়ে- সংলাপের শুরুতেই সূচনা বক্তব্যে দেশবাসীর কাছে নতুন আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপ চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংলাপ শুরু হয়।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে গণভবনে প্রবেশ করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। মোট ১০টি গাড়িতে করে তারা শান্তিনগর হয়ে গণভবনে এসে পৌঁছান।

সংলাপে বসে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের দেশের উন্নয়নে কী করছে তা দেশবাসীসহ সকলে দেখেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের উপর ছেড়ে দেব দীর্ঘ নয় বছর ১০ মাস হতে চলল, আমার সরকার এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি।’

এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাধারণ মানুষ ভালো আছে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা করেছিলাম সেই দিন বদল হচ্ছে। এটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান নেতা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন, প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারে সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্যে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।

এর আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির গত শাসনামলে একই সঙ্গে দুটি সরকার চালু ছিলG

তিনি বলেন, সরকার একটি ছিল.. তার পাশাপাশি আরেকটা সরকার থাকল। একটি হল হাওয়া ভবনের সরকার, একটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সরকার। তার ফলে বাংলাদেশের সব উন্নয়ন ব্যাহত। আমরা আবার পিছিয়ে গেলাম।

বৃহস্পতিবার জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তবে গণভবনের সংলাপে সরাসরি বিএনপি বা খালেদা-তারেকের বিপক্ষে কোনো কথা বলেছেন এমন জানা যায়নি।

সংলাপে রয়েছেন যারা:

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আজকের সংলাপে অংশ নেবেন, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,

মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী,

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এসএম আকরাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আ ব ম মোস্তফা আমিন, মোকাব্বির খান, এড. জগলুল হায়দার আফ্রিক ও আ. ও. ম শফিক উল্লাহ।

সংলাপের জন্য প্রথমে ১৬ জনের তালিকা জানানো হলেও বৃহস্পতিবার আরো ৫জনকে তালিকায় যুক্ত করা হয়।

সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আরো থাকবেন- ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, দিলীপ বড়ুয়া , রাশেদ খান মেনন,

হাসানুল হক ইনু, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, মাহবুবউল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, হাছান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম।

সুত্রঃ গো নিউজ২৪