রক্ত দেওয়ার পূর্বে, রক্ত দানের সময়, রক্ত দেওয়ার পর, আপনার কী করনীয়। জেনে নিন।

প্রশ্ন: রক্ত দানের পূর্বে কী করণীয়?

১। আপনাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যেমন- লাল মাংস, মাছ, মুরগী, শিম ও শাক বিশেষ করে পালং শাক।

২। রক্ত দেয়ার আগের রাতে পরিপূর্ণ ঘুম প্রয়োজন।

৩। রক্ত দানের পূর্বে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার, ভাঁজাপোড়া খাবার ও আইসক্রিম এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ চর্বি জাতীয় খাবার খেলে ব্লাড টেস্ট প্রভাবিত হয়। রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সংক্রামক ব্যাধির টেস্ট করা সম্ভব হয়না। ফলে সেই রক্ত সঞ্চালন করা হয়না।

৪। যদি আপনি প্লাটিলেট ডোনার হয়ে থাকেন তাহলে রক্তদানের অন্তত ২ দিন আগে থেকেই অ্যাসপিরিন গ্রহণ বন্ধ করতে হবে আপনাকে।

৫। রক্তদানের ১২ ঘন্টা পূর্বে লবণাক্ত খাবার যেমন- সল্টেড বিস্কুট বা চিপস খান। কারণ রক্তদান করলে দেহ থেকে ৩ গ্রাম লবণ বের হয়ে যায়।

৬।আপনি যদি কোনো কারণে অসুস্থবোধ করে তবে সেদিনের মতো রক্ত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭। রক্ত দানের পূর্বে প্রচুর পরিমাণে পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাবেন।

প্রশ্ন: রক্ত দানের সময় করণীয় কী?

১। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যার হাতা কনুই এর উপরে উঠানো যাবে।

২। আপনার যে হাত থেকে রক্ত নিলে আপনি পছন্দ করবেন তা যিনি রক্ত নিবেন অর্থাৎ টেকনিশিয়ান বা নার্সকে জানান।

৩। রক্তদান প্রক্রিয়াটির সময় রিলেক্স থাকুন, গান শুনুন অথবা অন্য রক্ত দাতাদের সাথে কথা বলুন।

প্রশ্ন: রক্ত দানের পরে করণীয় কি?

১। রক্তদানের পর অতিরিক্ত ৪ গ্লাস বা ৮ আউন্স পানি পান করুন এবং পরবর্তী ২৪ ঘন্টা অ্যালকোহল গ্রহণ করা ঠিক নয়।

২। রক্তদানের ১ ঘন্টার মধ্যেই আক্রান্ত স্থানের মোড়ানো ব্যান্ডেজ খুলে ফেলুন। এর পরিবর্তে ছোট স্ট্রাইপ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।

৩। স্কিন র‍্যাশ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রাইপ ব্যান্ডেজের চারপাশ সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।

৪। রক্ত দেয়ার পড়ে ভারীকিছু উঠানো বা ভারী ব্যায়াম না করাই উচিৎ।

৫। সুঁই ফোটানোর স্থান দিয়ে যদি রক্ত পরে তাহলে সেখানে চাপ দিন এবং হাত উপরের দিকে উঠিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত না রক্তপাত বন্ধ হয়।

৬। যদি রক্ত দেয়ার পরে আপনার মাথা ঘোরায় তাহলে আপনি যে কাজ করছিলেন তা করা থেকে বিরত থাকুন। মাথাঘোরানো বন্ধ করার জন্য শুয়ে থাকুন।

৭। অনেকটা সময় শুয়ে থাকবেন। হুট করে উঠে বসবেন না বা উঠে দাঁড়াবেন না।

৮। প্রচুর পরিমাণে পানি ও পানি জাতীয় খাবার গ্রহন করুন। এই ব্যাপারে অবহেলা করবেন না মোটেও।

৯। আয়রন, ফোলাইট, রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, মাছ, ডিম, কিশমিশ, কলা ইত্যাদি ধরণের খাবার খাবেন।

১০।কয়েক ঘণ্টার জন্য শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং বেশ কিছুদিন সাধারণ সময়ের তুলনায় একটু কম পরিশ্রম করে বিশ্রাম নিন।

১১। রক্তদানের ৩ মাস পর নতুন করে রক্ত দিতে পারবেন। এর আগে পুনরায় রক্ত দেবেন না।