Home / সংবাদ / ৫ আসনে লড়বেন খালেদা জিয়া, শরিকদের জন্য ১০০

৫ আসনে লড়বেন খালেদা জিয়া, শরিকদের জন্য ১০০

৫ আসনে লড়বেন খালেদা- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটকে একসঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় বিএনপি। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নানা রকম মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও প্রার্থীতায় অযোগ্যতার প্রেক্ষিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন করে বিকল্প প্রার্থী রেখে নির্বাচনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির দুই শরিক দল – জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। বিএনপি মনে করছে, এ নির্বাচন যেহেতু তাদের অস্তিত্বের লড়াই, সেহেতু তাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেই এ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।

সেজন্য বিএনপি শরিকদের জন্য ১০০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। সেক্ষেত্রে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ৫০ আসন ও ২০ দলীয় ঐক্যজোটকে ৫০ আসন দেওয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, লন্ডনে তারেক রহমান বিএনপির ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত করেছেন। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও নিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে সশরীরে লন্ডনে গিয়ে সাক্ষাত করেছেন। আবার কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে টেলিফোনেও সাক্ষাৎ করেছেন। তারেক এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে এ বিষয়টি বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, অনেক আগেই বিএনপি গোপনে তাদের মনোনয়নের কাজটি চূড়ান্ত করেছে। বিএনপিও আওয়ামী লীগের মতোই মাঠ পর্যায়ে একাধিক জরিপ করেছে। সেসব জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রায় ২০০ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছে না। বিএনপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অন্য রকম চমক আনতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জোবায়দা রহমান সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। প্রয়াত কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান মাগুরা এবং ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বোন এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া কেউই এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারছে না, কাজেই জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বেশি সংখ্যক প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে জিয়া পরিবারের কর্তৃত্ব বিএনপিতে রাখার চেষ্টা করা হবে।

তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৫টি আসনে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার ২টি আসন, ফেনীর ১টি আসন, ঢাকার ১টি আসন ও খুলনা অঞ্চলের ১টি আসন। বিএনপি বলছে, নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে তাঁরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চায়।

বিএনপির নেতা খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যায় তাহলে অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আইনী লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য করার সুযোগ নেই। কারণ তিনি হাইকোর্টের রায়ে দন্ডিত হয়েছেন, আমরা আপিল বিভাগে যাবো। দন্ডিত হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে আপিল বিভাগের।’

এ প্রসঙ্গে তিনি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, দু’জনই উচ্চ আদালতে দন্ডিত হওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলো।

তাঁরা বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র নেবেন এবং ৫টি আসনেই মনোনয়ন ফর্ম জমা দেবেন। যদি খালেদা জিয়ার মনোনয়পত্র গ্রহনে বাঁধা দেওয়া হয়, সেটিকে তাঁরা আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে সামনে নিয়ে আসবেন। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি যে  নির্বাচনের প্রস্তুতি আগে থেকেই করে রেখেছিলো তা ক্রমশ: দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন প্রতিযোগিতা করবেন কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। একাধিক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহনে আগ্রহী নন। তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ড. কামাল হোসেন শারীরীকভাবে যথেষ্ট অসুস্থ। জনগণের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা খুব একটা বেশি নয়।

খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে যান, সেক্ষেত্রে তাঁর ছেড়ে দেওয়া একটি শূন্য আসন থেকে ড. কামালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সম্ভাবনা আছে। তবে ড. কামাল হোসেনের নির্বাচনে অংশগ্রহন না করলেও, তাঁর নেতৃত্বে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও যুক্তফ্রন্টের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে।

বিএনপি চাইছে, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সব প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করাতে। এ নির্বাচনকে একটি আন্দোলনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। তবে বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছে, তাঁরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে কি না তা নির্ভর করবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার ওপর। নির্বাচন কমিশন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত না করে তাহলে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

সূত্র- বাংলা ইনসাইডার