Home / লাইফ স্টাইল / গর্ভধারণ করতে চাইলে কি কি করবেন?

গর্ভধারণ করতে চাইলে কি কি করবেন?

যদি সন্তান নিতে চান, তবে অনেক কিছুই ভাবনায় চলে আসে। কি নাম রাখবেন বা ওর জন্যে কি কি কিনবেন ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভধারণের জন্যে আপনার দেহ প্রস্তুত কিনা তা বুঝতে হবে।

দিল্লির ইন্দ্রাপ্রাস্থা অ্যাপোলো হসপিটালের গাইনকোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ড. প্রগতি প্রকাশের মতে, সন্তান নেওয়ার বিষয়টি মনঃস্থির করার পর গর্ভধারণে বিলম্ব না করাই ভালো। সন্তান নেবেন কি নেবেন না ইত্যাদি বিষয়ে দোটানায় থাকলে স্বাভাবিক গর্ভধারণে নানা মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া অবসাদ বা বিষণ্নতা ভর করে। অন্যান্য কিছু মানসিক অবস্থাতে নারীর গর্ভধারণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের গাইনকোলজিস্ট অ্যান্ড অবসটেট্রিসিয়ান ইউনিটের প্রধান ড. নিকিতা সোবতি জানান, কর্মজীবী নারীর স্ট্রেস, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে গর্ভের উর্বরতা হ্রাস বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। তা ছাড়া জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্থূলতা, ধূমপান ও অ্যালকোহলের কারণেও গর্ভধারণে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়। রাত জেগে যে নারীরা কাজ করেন, তাদেরও গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ড. সোবতি আরো বলেন, কাজেই যদি গর্ভধারণ করতে চান, তবে প্রকৃতিগত নিয়মের বিরুদ্ধে না যাওয়াটাই উত্তম। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সময়মতো সেক্সের মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে গর্ভধারণ সম্ভব। ডিম্বস্ফোটন তখনই ঘটে যখন একটি ডিম্বাণু ডিম্বাশয়ে চলে আসে। প্রতিমাসে পিরিয়ড চক্রের ১৪তম দিনে একটি করে ডিম্বাণু ডিম্বাশয়ে আসে। এই সময়সূচি বুঝে গর্ভধারণ সহজেই সম্ভব।

যা করতে হবে : গর্ভধারণ করতে চাইলে যা করবেন তা জানিয়েছেন ড. প্রকাশ।

১. ডিম্বস্টোটনের সময় বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

২. স্থূলতা বা অতিরিক্ত স্লিম হওয়া গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৩. যারা পরিকল্পনা করেছেন তাদের আগে থেকেই ভিটামিন গ্রহণ করা উচিত।

৪. স্বাস্থ্যকর নানা ধরনের খাবার খেতে হবে।

৫. ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টি করুন এবং হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা চর্চা করুন।

৬. প্রতিদিন কিছু পরিশ্রমে নারীর দেহ গর্ভধারণের অনুকূলে থাকে।

৭. বয়সের দিকে নজর রাখবেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে যায়।

মনে রাখবেন… :
১. জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়া বাদ দিন।

২. ধূমপান বা অ্যালোকোহলের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করুন।

৩. ক্যাফেইন খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম কি ক্ষতিকর? : ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম কার্যকর। বেশি বেশি ব্যায়াম কাজে নাও লাগতে পারে। তাই ইয়োগা ও মেডিটেশন চর্চা করতে পরামর্শ দেন ড. সোবতি। হাঁটাহাঁটি করুন। সকালে দৌড়াতেও পারেন। তবে অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে উর্বরতা নষ্ট হওয়ার তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। অবশ্য যে নারীরা খুব বেশি ব্যায়াম করেন তাদের অনিয়মিত পিরিয়ড কিংবা পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যারা বিশেষ সমস্যার জন্যে বিশেষায়িত ওষুধ গ্রহণ করছেন তাদের অতিমাত্রায়া শরীরচর্চা না করাই ভালো।