Home / লাইফ স্টাইল / মুখের দাগ দূর ও ত্বক উজ্জ্বল করার সেরা কয়েকটি ঘরোয়া উপায়!

মুখের দাগ দূর ও ত্বক উজ্জ্বল করার সেরা কয়েকটি ঘরোয়া উপায়!

কাজের জন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়তই বাইরে বেরুতে হয়। তাই রোদে চলাফেরার কারণে ত্বকে কালো, বাদামি কিংবা লালচে দাগ পড়তে পারে। এছাড়া বার্ধক্য, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তা, ধূমপান, ক্যান্সার, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা রোদে অতিরিক্ত চলাফেরার কারণে শরীরে এই ধরনের দাগ পড়তে পারে। ভিটামিন সি বা বি-১২ এর অভাবে এবং মেয়েদের মাসিক বা গর্ভাবস্থায় শরীরে এই ধরনের দাগের সৃষ্টি হয়।

মুখের দাগের একটি প্রধান কারণ, ত্বকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ। যার ফলে ত্বকে দেখা দেয় ব্রণ-ফুসকুড়ি। ব্রণ সেরে গেলেও দাগ রয়ে যায়। অনেক সময় ব্রণ হওয়ার পর তাতে বারবার হাত দেওয়ার থেকেও হতে পারে দাগ। এছাড়া মুখের পোরস বন্ধ হয়ে গেলে যে তেল নিঃসরণ হয়, তাতে ময়লা-তেল সব মিশে ত্বকের উপরিভাগ অর্থাৎ এপিডারমিস লেয়ারে তৈরি হয় ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইট হেডস এবং এগুলো জমতে জমতে একসময় তা পিগমেন্টেশনের আকার নেয়। আর ত্বকের একদম নিম্নভাগ, অর্থাৎ ডারমিস লেয়ারে এর প্রভাব পড়লে দেখা দেয় অ্যাকনে।

তাই সময় থাকতেই এর সমাধানে উদ্যোগী হওয়া দরকার। এসব দাগ দূর করতে আমরা কম খরচে কিছু ঘরোয়া বা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারি। নিচে এ ধরনের কিছু ঘরোয়া টোটকা দেয়া হল:

১. ক্যালামাইন লোশন ব্রণ বা অয়েলি স্কিনের ব্লেমিশের জন্য খুব কার্যকরী। এটি সরাসরি ত্বকে লাগিয়ে নিন। কয়েক ঘণ্টা পর পর ব্যবহার করুন। প্রতিবার ব্যবহারের আগে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। কারণ ক্যালামাইন লোশনে থাকে জিঙ্ক, যা অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। ফলে ব্রণের সমস্যাও কমে।

২. কোকো বাটার যে কোনও দাগ দূরীকরণে কার্যকরী। ড্রাই স্কিনের জন্য খুব সামান্য পরিমাণে কোকোবাটার নিয়ে ত্বকের দাগযুক্ত অংশে লাগিয়ে নিন। সারা রাত রাখুন। কোকো বাটারে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি প্রপার্টি, যা ব্লেমিশ হালকা করে ত্বককে হাইড্রেট করে।

৩. ১ চা চামচ বেকিং সোডা এবং অল্প পানি বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট করুন। ওই পেস্ট ত্বকের দাগযুক্ত অংশে দিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। বেকিং সোডা ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে, মৃত কোষগুলো দূর করে।

৪. ডিমের সাদা অংশ ব্রাশ বা হাতে নিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার পর স্কিন টাইপ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটা সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন।
এছাড়া ডিমের কুসুম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং উজ্জ্বলতাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে আক্রান্তস্থানে ডিমের কুসুম ব্যবহার করে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫. ১ ভাগ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার, ৪ ভাগ পানি মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে দিনে দু’বার মুখে স্প্রে করুন। এই সলিউশন ত্বকে পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে, ব্লেমিশ হালকা করে।

৬. অ্যালোভেরা খুব কার্যকরী দাগ দূর করার জন্য। সরাসরি অ্যালোভেরা গাছের পাতা থেকে রস নিয়ে মুখে লাগাতে পারেন বা অ্যালোভেরা জেল কিনতেও পারেন। যে সমস্ত জায়গায় দাগ রয়েছে, সেখানে অল্প করে নিয়ে লাগিয়ে দু’-তিন মিনিট ম্যাসেজ করুন। এবার ধুয়ে ফেলুন। দিনে দু’বার দিতে পারেন। অ্যালোভেরা ত্বকের দাগ হালকা করে, রিজুভিনেট করে ত্বককে। অয়েলি স্কিনের জন্য বিশেষভাবে উপকারী অ্যালোভেরা।

৭. মধু সরাসরি দাগের ওপর লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর পরিস্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। মধু দ্রুত দাগ হালকা করে। মধুতে রয়েছে হিউমেকট্যান্ট, যা ত্বককে নারিশমেন্ট দেয়। এর স্কিন লাইটেনিং প্রপার্টি ত্বকের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। ত্বককে ফ্রি র‌্যাডিকল্‌স থেকে বাঁচায়, নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে মধু।

৮. আলুর রস নিয়ে ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ১ থেকে ২ বার করুন। আলুতে রয়েছে এনজাইম ও হালকা ব্লিচিং এজেন্ট, যা দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

৯. লেবুর রস সরাসরি দাগযুক্ত অংশে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি আপনার ত্বক সেনসিটিভ হয়, তবে লেবুর রসে অল্প পানি মিশিয়ে নিন। সরাসরি দেবেন না। এছাড়াও চাইলে গোটা লেবু মাঝ বরাবর কেটে আক্রান্ত স্থানে ঘষতে পারেন। গোসলের আগে এই অভ্যাস শরীরের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। এতে রয়েছে বিশেষ উপাদান, যা শরীরের গাঢ় দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

১০. ক্যাস্টর অয়েল দাগযুক্ত স্থানে লাগান। এতে রয়েছে শোষণকারী উপাদান। যা বার্ধক্যজনিত দাগ দূর করে। ভালো ফলাফলের জন্য এই তেল তুলোয় মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে হবে।

১১. ত্বকের বলিরেখা দূর করতে চন্দনের জুড়ি নেই। চন্দনগুঁড়া, গ্লিসারিন, লেবুর রস এবং গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ ত্বকে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। ১২. ত্বকে চিনি ঘষার মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করা যায়। চিনির মধ্যে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান থাকে যা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

১৩. পেঁপের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম, যা ত্বকের কালিমা দূর করে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে তাজা পেঁপে ঘষে মিনিট বিশেক পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। দিনে দুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। ১৪. পেঁয়াজের রস ত্বকের বলিরেখা দূর করে। দিনে তিনবার করে আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজ ফালি ঘষে শরীরের কালো দাগ দূর করা যেতে পারে।

১৫. মুখের কালো দাগ দূর করার জন্য প্রতিদিন গোলাপ জলে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং মুখের কালো দাগ পরিষ্কার করে। ১৬. ত্বক যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখুন। ১৭. শুতে যাওয়ার আগে ত্বকের সমস্ত মেকআপ তুলে ফেলুন। ১৮. দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি ও মৌসুমি শাকসবজি-ফল নিয়মিত খান।

অল্প খরচে এই ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রাকৃতিকভাবে শরীরের কালো দাগ দূর করা যায়। তাই মুখের বলিরেখা বা শরীরের কালো দাগ দূর করার জন্য উপরে বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর যেকোনো একটি বা দুটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।