Home / লাইফ স্টাইল / যে সব রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রসুন

যে সব রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রসুন

যে সব রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রসুন জেনে নিন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:

রসুনে রয়েছে Allicin নামক উপাদান। এটি রক্তের এনজিওটেনসিন ২ (এমন একটি প্রোটিন যা দেহের রক্তচাপ উঠানামার জন্য জন্য দায়ী) এর ক্ষতিকর ক্রিয়াতে বাধা দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুন থাকা সাইফাইডের যৌগ পলিসালফাইড রক্তের ধমনীকে প্রসারিত করে যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়।

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল:
হাজার বছর ধরেই রসুন অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে বিদ্যমান অ্যালিসিন যা ব্রডস্পেকট্রাম যা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে, তাই রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক বলা হয়। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল, প্যারাসাইটিক ইনফেকশন সারানোর জন্য রসুন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ক্যানসার প্রতিরোধে:
নিয়মিত রসুন সেবনে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ হয়ে থাকে। মেয়েদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এমনকি রেক্টাল ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে। গলব্লাডার ক্যানসার হওয়া থেকেও মুক্ত রাখে। রসুন প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। এই রসুন ইস্ট ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া
নিয়মিত রসুন সেবনে শরীরে সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়।

হৃদরোগ থেকে বাঁচতে:
হৃদপিন্ডের সুস্থতায় রসুন অনেক উপকার আসে বলে জানা যায়। রসুন কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। যে কারনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমে যায় । প্রতিদিন রসুনের কয়েকটি কোয়া কাঁচা বা আধা সিদ্ধ করে সেবনে কেলেস্টেরলের মাত্রা কম হয় । আবার রসুন রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখতেও কাজ করে।

রক্ত পরিষ্কার করতে:
ব্রণের সমস্যা দূর করতে ব্যর্থ হলে তা গোঁড়া থেকে নির্মুল ককরতে হবে। দুই কোয়া রসুন হালকা গরম পানির সঙ্গে খেয়ে নিন, এটি রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অনেক সময় শরীরে আঁচিল হয়ে থাকে, এই রসুনের রস আচিলের ক্ষেত্রেও উপকার করে।

পেটের কৃমি নিরাময়:
রসুন পেটের কৃমি নিরাময়ে অনেক উপকার করে থাকে। এ কারনে অনেকেই রসুন খেতে উপদেশ দিয়ে থাকেন। ঠান্ডা ও জ্বরের মহৌষধ: প্রায়ই ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হন এমন ব্যক্তির জন্য রসুন খুব ভাল ওষধ হিসেবে কাজ করতে পারে। শরীর থেকে জ্বর আর ঠান্ডা দূর করার জন্য প্রতিদিন দু-তিন কোয়া রসুন কাঁচা খেতে পারেন।

ত্বক ও চুলের যত্নে:
নিয়মিত রসুন সেবনে ত্বক সুন্দর হয় ও বয়সের ছাপ দূর হয়। এ ছাড়া ফাঙ্গাশ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে ত্বক সুরক্ষায় নিয়মিত রসুন সেবন করা যেতে পারে। দাদ, খোস পাচড়া ধরনের চর্মরোগ থেকে রসুন উপকার দেয়। চামড়ায় ফোসকা পড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় রসুন। চুল পড়া বন্ধ করতে রসুনের ব্যবহার হয়। আবার নতুন চুল গজাতে রসুন ভালো কাজ করে। ত্বক ও চুলের উপকার পেতে নিয়মিত রসুনের নির্যাস বা রসুন সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করতে হবে।

রক্তকে পরিশুদ্ধ:
কাঁচা রসুন রক্তকে পরিশুদ্ধ করে, তার ফলে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়। সকালে উঠে খালি পেটে দু’কোয়া রসুন খান আর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন
দেখবেন ব্রণর সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

চোখে ও দাঁতের যত্নে রসুন:
রসুন চোখের ছানি পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আবার দাঁতের ব্যথা সারাতে রসুন সাহায্য করে থাকে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত রসুন খেলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হজমের সমস্যা মুক্তি:
রসুনের কোয়া কুচি করে নিয়ে তা সামান্য ঘিয়ে ভেজে নিন। এ ভাজা রসুন সবজির সাথে কিংবা খালি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এর ফলে হজমের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। অন্যদিকে এ অভ্যাসের ফলে কোস্টকাঠিন্যে সমস্যারও সমাধান পেতে পারেন।

শরীরের ফোড়া সারাতে:
শরীরের যে কোন স্থানে পুজ ও ব্যথাযুক্ত ফোড়া হলে রসুনের রস তা সারাতে সাহায্য করে থাকে। যেখানে এই পুজ বা ফোড়া হবে, সে স্থানে রসুনের রস লাগিয়ে ১৫মিনিট পরে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। খুব দ্রুতই এর সুফল পাবেন।

অ্যালার্জি প্রতিরোধে:
রসুনের মাঝে থাকা কিছু যৌগ যেমন diallyl sulphide ও thiacremonone এর কারনে রসুনের রয়েছে অ্যান্টিআর্থ্রাইটিক গুনাগুন। এই যৌগগুলোর কারনে রসুন অ্যালার্জি জনিত শ্বাসনালীর প্রদাহ নিরাময় করতে সহায়তা করে। কাঁচা রসুনের রস ব্যবহারের ফলে পোকার কামড় বা র‍্যাশের কারনে যে চুলকানির সৃষ্টি হয় সেটা কমিয়ে দেয়।