Home / লাইফ স্টাইল / কম বয়সে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যায় যেসব কারনে

কম বয়সে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যায় যেসব কারনে

বয়সের সাথে সাথে মুখে ও ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু জীবনধারণের ধরণ ও অভ্যাসের কারণে কম বয়সে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে অনেকের। ত্রিশের কোঠায় ঢুকতেই ত্বকের লাবণ্য কমতে শুরু করে। কি কারণে খুব কম বয়সে ত্বক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে বুড়িয়ে যাচ্ছে এটি জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন এই কারণগুলো-

১. শরীর ফিট রাখার জন্য অনেকেই ব্যায়াম করে থাকে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়।

২. কর্মস্থলে কাজের চাপ শরীরিক ও মানসিকভাবে আপনার বুড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

৩. বাড়িতে হোক বা কর্মস্থলে, অনেককেই দিনভর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দীর্ঘক্ষণ কাটাতে হয়। যা ত্বকে শুষ্ক করে দেয় এবং তার ফলে কমবয়সেই ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে।

৪. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থাকলে, বিশেষ করে বাইরের খাবার বেশি খেলে ত্বকে তার খারাপ প্রভাব পড়ে খুব কম বয়সেই। তৈলাক্ত খাবার ত্বকের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।

৫. ধূমপান ও মদ্যপানের নেশা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে নানাভাবে। দুটোই ত্বককে অল্প বয়সে বুড়িয়ে দেয়।

৬. রোদে বের হলে সানগ্লাস পরা অবশ্যই উচিত। যদি এই অভ্যাস আপনার না থাকে তাহলে চোখের নিচের ত্বক খারাপ হতে শুরু করে, চোখের নিচে কালি পড়ে।

৭. বাইরে কোনও ধরনের পানীয় নেওয়ার সময়ে তা আমরা স্ট্র দিয়ে পান করি। এমনটা নিয়মিত করতে শুরু করলে ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে। নিয়মিত এই অভ্যাস থাকলে সেই দাগ স্থায়ী হয়ে যায়।

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রুখতে ১২টি নিয়ম

যৌবন ধরে রাখতে আমরা সবাই চাই৷ কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় আসা পরিবর্তনগুলোকে আটকানো তো মুখের কথা নয়৷ তার জন্য প্রয়োজন নিয়ম মেনে কিছু রুটিন ফলো করা৷ তাহলে ৪০-এ আপনাকে হয়তো কুড়ির মতো লাগবে না, তবে অকালে বুড়িয়ে যাওয়াও আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না৷

১. যৌবন ধরে রাখার মূল মন্ত্রই হল সুস্থ, নির্মেদ শরীর৷ আর এর জন্য হাঁটার কোনও বিকল্প নেই৷ প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা করে হাঁটুন৷ মোবাইলে গান শুনতে শুনতে হাঁটা নয়, ঘড়ি ধরে একেবারে ব্রিস্ক ওয়াকিং৷ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে, হার্ট ভালো থাকবে৷ নিয়ন্ত্রণে থাকবে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিজ, কোলেস্টেরল, প্রেশারের মতো সমস্যা৷ ফলে আপনাকেও লাগবে ঝরঝরে৷

আরও কিছু ভিডিও পোস্ট

স্ত্রীকে খুশি করার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন, সারাজীবন কাজে লাগবে

আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা যেভাবে ফিরিয়ে আনবেন ভাতের ফ্যান দিয়ে..

২ চামচ পেঁপের বীজের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে খেয়েছেন কখনো?

ভায়াগ্রা নয় গোপন দুর্বলতায় খান কালোজিরা, জেনেনিন কিভাবে খাবেন…

মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে কি হয়? জানলে এখন ই খাবেন…

মেথি ব্যবহার করে সহজেই ওজন কমানোর দারুণ ৫টি কৌশল শিখে নিন,

বিনা পয়সার যে খাবারটি যৌ’বন ধরে রাখে ও নতুন চুল গজায়ঃ দেখে নিন কিভাবে খাবেন…

২. প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তত একটা করে মরসুমী ফল রাখুন৷ তবে রোজ যদি আম, কলা, আনারস, কাঁঠাল খেতে থাকেন, তাহলে ওজন বেড়ে আপনাকে বয়সের থেকে আরও দশবছর বেশি বয়স্ক লাগবে৷ তাছাড়া ফল পুষ্টিগুণেও ভরপুর৷ ফলে থাকা ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর আপনাকে রাখে তরতাজা৷

৩. দৈনন্দিন ডায়েট থেকে সবুজ শাকসব্জি বাদ দিলে কিন্তু চলবে না৷ সবজি খেলে মানসিক উন্নতিসহ শারীরিক উন্নতিও হয়। মানুষ আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মোটের ওপর সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷

৪. ওজন কমাতে গিয়ে বা স্রেফ ইচ্ছে করছে না বলে ব্রেকফাস্ট কখনওই বাদ দেবেন না৷ তাহলে কিন্তু শরীরের মেটাবলিজম সিস্টেমের গোলমাল হয়ে বেশি করে খিদে পেতে থাকে৷ আর বারে বারে খেতে খেতে আখেড়ে আমরা নিজের ক্ষতিই ডেকে আনি৷

৫. যৌবন ধরে রাখতে হলে মিষ্টি জাতীয় খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। চকোলেট, পেস্ট্রি, ব্রাউনি, আইসক্রেমর মতো খাবারে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট থাকে যা শরীরে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এগুলি যতটা সম্ভব কম খান৷ তা বলে ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি ছেঁটে ফেলবেন না৷ অল্প হলেও নিয়মিত খান৷ তাহলে শরীরের এনার্জি লেভেল ঠিক থাকবে৷ শরীর-মন জুড়ে স্বতস্ফূর্ততার অনুভূতি থাকবে৷

৬. বয়স বাড়ার প্রথম লক্ষণটাই দেখা যায় আমাদের ত্বকে৷ রিংকল্স, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, নির্জীব হওয়ার মতো ত্বকের সমস্যাগুলো শুরু হয় ৩৫-এর পর থেকেই৷তাই বয়স তিরিশ হলেই নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিন৷ ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং রোজ করুন নিয়ম করে৷আর মধ্য তিরিশের পর থেকে ব্যবহার করুন অ্যান্টি এজিং ক্রিম৷ মাসে অন্তত দুবার ফেস ম্যাসাজ করান৷ তবে খুব প্রয়োজন না হলে ফেসিয়াল করবেন না৷ দিনের বেলা সূর্যের আলো যেন সরাসরি ত্বকে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন৷ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করার জন্য এসপিএফ ৩০ বা এর বেশি উপাদান সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা জরুরি।

৭. শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত ওজন খুব দ্রুত মানুষকে বুড়িয়ে দেয়৷ এমনকি কমিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাসও৷ নিয়মিত ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেললে যৌবন ধরে রাখা সম্ভব৷ তা বলে একেবারে খাওয়া বন্ধ করেল কিন্তু হিতে বিপরীত হবে৷ শরীরের যাবতীয় গ্ল্যামার শেষ হয়ে, আপনার চেহারায় নেমে আসবে অকাল বার্ধক্য৷

৮. সুস্থ দীর্ঘ জীবন পেতে এবং যৌবন ধরে রাখতে সকালে খানিকক্ষণ সূর্যালোকে থাকুন। সূর্যের আলোতে আছে ভিটামিন ডি যা হাড়কে মজবুত করে। এবং সঙ্গে মানসিক চাপ ও অবসন্নতাও কমিয়ে দেয়৷

৯. চেষ্টা করুন প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোতে৷ সঙ্গে হাল্কা ব্যায়ামের অভ্যেস রাখতে পারলে উপকৃত হবেন আপনিই৷

১০. অ্যালকোহল, সিগারেট বা কোনও নেশার দ্রব্য বর্জন করুন৷

১১. এড়িয়ে চলুন স্ট্রেস৷ স্ট্রেসও খুব তাড়াতাড়ি চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলে৷

১২. প্রয়োজন আনুন মানসিকতায়৷ বয়স যে আদতে বাড়ছে, এই সত্যিটা মেনে নিন৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পাল্টান৷ যা আপনার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, তা নিয়েই খুশি থাকার চেষ্টা করুন৷ অতিরিক্ত উচ্চাক্ঙ্খাকে জীবন থেকে একেবারে ছঁটে ফেলুন৷ আপনি ভালো থাকবেন, চারপাশের সবাইকে ভালো রাখতে পারবে।

চারটি তেল

বার্ধক্যের গতি কমাতে দরকার সঠিক ধরনের চর্বি ও তেলের যথাযথ পরিমাণে ব্যবহার। দেহ থেকে ক্ষতিকর চর্বি ঝরিয়ে উপকারী চর্বির উপস্থিতি নিশ্চিত করে এসব তেল শারীরিক পরিপূর্ণতা জোগায়। এ তথ্য জানিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের গঠন ও আরোগ্য লাভে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে চারটি তেল।

১. নারকেল তেল: গুণের জন্য ‘সুপার ফুড’ হিসেবে এর খ্যাতি। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যবান জনগোষ্ঠীর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত এটি। ওজন ঠিক রাখতে অতুলনীয়। এর ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাকক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। স্নায়ু ও ত্বকের অসুস্থতা রোধেও কার্যকর এটি।

২. তিসির তেল: ওমেগা-৩ অ্যাসিডের সর্বোচ্চ উপস্থিতি রয়েছে এই তেলে। এর সঠিক মাত্রার ব্যবহার হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও কোলন টিউমারের বৃদ্ধি ঠেকাতে কেমোথেরাপির প্রয়োগজনিত প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দারুণ সহায়ক।

৩. ওমেগা-৩ মাছের তেল: উপকারী চর্বির মধ্যে সেরা প্রকারের এটি। তৈলাক্ত মাছ থেকে এই চর্বি সংগ্রহ করা হয়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের খনি এই তেল। এই ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি ইতিবাচক পার্থক্য তৈরি এবং হাড়ের কাঠামোর উন্নতিতে সহায়ক। সামুদ্রিক মাছ এই তেলের চমৎকার উৎস।

৪. জলপাই তেল: জনপ্রিয় ‘ভূ-মধ্যসাগরীয় খাদ্যপণ্য’ এটি। জীবনীশক্তি বৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু লাভ, পুরোনো ও কঠিন রোগব্যাধি সারাতে ব্যবহৃত হয়। হৃদ্যন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, যথাযথ রক্তচাপ ধরে রাখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতিতে বিশেষভাবে সহায়ক।

চিরযৌবনের ১১টি গোপন কৌশল!

আমরা পৃথিবীতে আর কতদিন? বাঁচি খুব বেশি হলে ১০০ বছর। ১২ বছরের পর থেকে কৈশোরে পা দেই আর কৈশোরের হাত ধরে আসে যৌবন। যৌবন থাকে খুব বেশি হলে ৪০ বছর পর্যন্ত। বয়সের সাথে সাথে আমাদের চেহারায় পড়ে বয়সের ছাপ।

অল্পতেই বুড়িয়ে যাওয়া কেউই পছন্দ করেন না। একটু বয়স বাড়তে না বাড়তেই যখন ত্বকে পড়ে বয়সের ছাপ এবং দেহের বিভিন্ন অংশে দেখা দেয় বয়সজনিত সমস্যা তখন অনেকেই আফসোস করেন, ‘যৌবনটা আরও কিছুদিন যদি ধরে রাখা যেতো’।

কিন্তু আফসোস করে কোনো কিছুই ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। তাই সতর্ক হওয়া উচিত তরুণ বয়স থেকেই। সতর্কতার সাথে নিয়মিত কিছু উপায় মেনে চললে অনেকটা সময় ধরে রাখতে পারবেন যৌবন। বয়স হলেও দেহে ও ত্বকে বয়সের ছাপ পড়বে বেশ দেরিতে। জানতে চান সেই গোপন উপায় গুলো? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।

১. মাছের তেল

মাছের তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা দেহে বয়সের ছাপ রুখে দিতে সক্ষম। এই ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করেন, কার্ডিওভ্যস্কুলার সিস্টেম ঠিক রাখে, চুলের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ রোধ করে। সুতরাং আপনি দেখতে যেমন তরুণ দেখাবেন তেমনই আপনার দেহও তারুণ্য অনুভব করবে। আপনি ভালো কোনো মাছের তেল পরিমিত খেতে পারেন নতুবা সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন মাছ রাখুন খাদ্যতালিকায়।

২. চিনিকে না বলুন

ডারমাটোলজিস্ট আভা সাম্ভান বলেন, ‘প্রসেসড চিনি, যা আমরা হরহামেশা খাই তা আমাদের ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। কারণ, প্রসেসড চিনি আমাদের ত্বকের কোলাজেন টিস্যু দুর্বল করে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট করে দেয়’। সুতরাং চিনিকে একেবারেই না বলুন।

৩. পরিশ্রম করুন

চলাফেরা, হাঁটাহাঁটি, শারীরিক ব্যায়াম যেভাবেই হোক না কেন পরিশ্রম করুন নিজের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য। শারীরিক পরিশ্রম পুরো দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, পুরো দেহে সঠিক উপায়ে অক্সিজেনের সরবরাহ করে। এতে আমাদের দেহের প্রায় প্রতিটি কোষ সজীব হয় এবং আমাদের দেহ অনেক সুঠাম হয়। দেহে বার্ধক্য জনিত সমস্যা অনেক কম দেখা দেয়।

৪. তিলের তেল

মে ফ্লাওয়ার ইন অ্যান্ড স্পা এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর এবং মালিক লিসা হেডলি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে তিলের তেল পুরো দেহের ত্বকে ম্যাসেজ করলে শুধু ত্বকই হাইড্রেট হয় না এর পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি পায়। এরপর ভালো করে গোসল করে নিলে ত্বকের মরা কোষ দূর হয় এবং ত্বক থাকে তরুণ অনেকটা সময় ধরে।

৫. গ্রিন টি

চা/কফি কমবেশি সকলেই পান করে থাকেন। কিন্তু যদি তারুণ্য ধরে রাখতে চান দেহে এবং ত্বকে তাহলে এর পরিবর্তে পান করা শুরু করুন গ্রিন টি। গ্রিন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে।

৬. মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন

মানসিক চাপের কারণে ত্বকে বিশেষ করে মুখের ত্বকে রিংকেল পড়তে দেখা যায়। এছাড়াও চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ধরা হয় মানসিক চাপকে। মানসিক চাপ শুধুমাত্র ত্বকেই বয়সের ছাপ ফেলে না এটি আপনার দেহকেও বুড়িয়ে ফেলে। মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করার বেশ বড় একটি কারণ। এছাড়া অনেকেই মানসিক চাপে পড়লে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। তাই মানসিক চাপ থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকুন। কোনোভাবে আমরা তা রোধ করে রাখতে পারি না। কিন্তু আমরা সকলেই চাই চিরজীবন যেন আমাদের তরুণ দেখায়, যেন অক্ষয় হয় যৌবন। কীভাবে চিরকাল ধরে রাখবেন যৌবনের সৌন্দর্য?

৭. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন

মানবদেহের ৬০ শতাংশই পানি। দেহে পানির পরিমাণ কমে গেলে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া প্রয়োজন। তবে এর বেশি হলে আরও ভালো। দেহে প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ হলে দেহের ভেতরের বিভিন্ন শিরা উপশিরা ভালোভাবে কাজ করতে থাকে। বিশেষ করে এটি হজমক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়া এটি ত্বকের নমনীয়তা, স্পন্দনশীলতা রক্ষা করে, দেহের দূষিত পদার্থ নিঃসরণ করে, অনিদ্রা দূর করে।

৮. চাপ কমানো

প্রতিটি মানুষেরই জীবনে বিভিন্ন ধরনের মানসিক এবং শারীরিক চাপ থাকে। এই ধরনের চাপ যেকোনো উপায়ে কমানো উচিৎ। গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক চাপ দেহের উপরে আঘাত হানে, হরমোন শুকিয়ে ফেলে এবং কোষ তৈরিতে বাঁধা দিয়ে থাকে। অনেক পদ্ধতি রয়েছে এই মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার। এর জন্য বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন আনা যেতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম, গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া, মেডিটেশন করা এই ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়, দেহে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং শরীরের শক্তি বেড়ে যায়। এর ফলে তারুণ্য ফুটে ওঠে।

৯. ফ্রুট ফেসিয়াল করুন

চিরতরুণ দেখাতে আপনি আপনার পছন্দমত মুখে ফ্রুট ফেসিয়াল করতে পারেন। মুখে পেঁপের মিক্স লাগাতে পারেন। পেঁপেতে থাকা এনজাইম যেটিকে পাপাইন বলে এটি ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলে এবং মেলানিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া স্ট্রবেরীর খন্ড অংশ মুখে ঘষলে বিটা ক্যারোটিন তৈরি করে এবং কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন এ সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক এ্যালোভেরা ত্বকের নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে, মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করে এবং পরিচ্ছন্নতা আনে। এই ধরনের প্রাকৃতিক নির্যাস ত্বকে শীতলতা এবং নমনীয়তা ফিরিয়ে আনে এবং চিরতরুণ থাকতে সহায়তা করে।

১০. নিয়মিত ব্যায়াম

আপনি যদি নিজেকে চিরতরুণ দেখাতে চান তাহলে অবশ্যই একটা নিয়ম করে শারীরিক ব্যায়াম করবেন। আপাতদৃষ্টিতে শারীরিক ব্যায়াম ত্বকের প্রাঞ্জলতা ফিরিয়ে আনার এক অতুলনীয় পদ্ধতি। পেশীর কাজ সহজ করে তোলে এই শারীরিক ব্যায়াম। সাধারণত বয়স হয়ে গেলে শরীর সেভাবে কাজ করে না। কিন্তু একমাত্র শারীরিক ব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা এবং কমনীয়তা বজায় রাখে। এটি হার্টের সমস্যাকের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সজীব ও প্রাণবন্ত দেখাতে সহায়তা করে। শারীরিক ব্যায়াম রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখে যেটি মস্তিষ্ককে সচল রাখে। সবচেয়ে সুবিধাজনক শারীরিক ব্যায়াম হল প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা।

১১. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

চিরতরুণ দেখাতে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারেন যেখানে বেশিরভাগ খাদ্যের মধ্যে থাকবে ফলমূল এবং সবজি। গরুর মাংসসহ বিভিন্ন মাংস থেকে দূরে থাকাই ভালো এবং সম্ভব হলে সামুদ্রিক কোনো খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন। পাউরুটি এবং শস্যদানা জাতীয় খাবারকে বিদায় দেয়া চিরতরুণ থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এনে দেবে। ফলমূল এবং সবজি জাতীয় খাবার দেহে এন্টি-অক্সিডেন্টের যোগান দেবে যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ত্বকের পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং ঔজ্জ্বলতা ধরে রাখে। ফলে চিরতরুণ দেখাতে সহায়তা করে।

খেতে হবে যে খাবার

অনেকেরই হয়তো বয়স বেড়ে যাওয়ার পরও হৃদয়টা তরুণ থেকে যায়। ফলে তারা তাদের শারীরিক তারুণ্যও ধরে রাখতে চান। তাদের জন্যই রইল এমন কিছু খাবারের তালিকা যেগুলো ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। স্থিতিস্থাপকতাও বাড়ায়। ফলে আপনার বয়স বাড়লেও বুড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি খুব বেশি একটা হবে না। এখানে রইল এমন খাবারের তালিকা যেগুলো নিয়মিত খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।

১. গ্রিন টি: এতে আছে শক্তিশালী ফ্ল্যাভোনয়েড। এটি হাঁটুর জন্য খুবই উপকারী। এবং তরুণাস্থির যেকোনো ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া এর রয়েছে বিস্তর বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধী উপকারিতা।

২. আঙুর: আঙুরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। এতে আরো আছে রেজভেরাট্রোল। বিশেষত লাল আঙুরে এই উপাদানটি বেশি থাকে। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

৩. ডার্ক চকলেট: চকলেটা থাকা কোকোয়া বলিরেখা ও ডার্ক সার্কেল থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৪. আখরোট: চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী আখরোটে আছে কপার। যা চুলকে আরো স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী করে। এতে আরো আছে ভিটামিন ই।

৫. আনারস: ব্রোমালেইন এর মতো এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী। এটি ব্রণ দূর করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

৬. টমেটো: টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে।

৭.অ্যাভোকাডো: ত্বককে কোমল ও নমনীয় করে অ্যাভোকাডো। এতে থাকা ওমেগা ৯ ফ্যাটি এসিড ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

৮. ওট বা জই: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া ত্বকে বলিরেখা পড়াও ঠেকায় ওট।

৯. তরমুজ: এতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে বলিরেখা পড়া ঠেকায়।

১০. গাজর: এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর মাধ্যমে ক্ষয় হওয়া প্রতিরোধ করে।

১১. ব্লুবেরি: এটি ভিটামিন সি এবং ই-তে ঠাসা। বেরির মধ্যে এটিই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

১২. লাল বাঁধাকপি: নিয়মিত লাল বাঁধাকপি খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

১৩. কিউই: এটি হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং স্বাস্থ্যকর গাড় গড়ে তোলে। এ ছাড়া দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করতে ভুমিকা পালন করে।

১৪. মৌরি: আঁশসমৃদ্ধ এই খাদ্যটি দেহেকে বিষমুক্ত করতে এবং হজমে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

১৫. লেবু এবং গরম পানি: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি এবং লেবুর রস খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

১৬. কিডনি বীন বা শিম: পটাশিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ এই শিম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

১৭. অলিভ অয়েল: এতে থাকা পলিফেনলস এবং ভিটামিন ই দুটোই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

১৮. নারকেলের পানি: একে বলা হয় বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধের সেরা পানীয়। এতে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদান ত্বককে সজীব রাখে।

১৯. স্ট্রবেরি: ভিটামিন সি-তে ঠাসা এটি। যা দেহে কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায়। আর এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার দেহ মনকে চনমনে করে তারুণ্যে অনুভূতি এনে দিবে।

২০. আপেল: ভিটামিন সি’র সমৃদ্ধ উৎস। যা ত্বকের কোষগুলোর জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাবে এবং তারুণ্য বোধ করবেন।

২১. শ্বেতবীজ বা শণবীজ: এতে থাকা লিগনাস কোলোস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে রাখতে বেশ সহায়ক।

২২. দারুচিনি: এটি কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায় যা আবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।

২৩. আদা: জিনজারোল সমৃদ্ধ আদার প্রদাহরোধী কার্যকারিতা বিশাল।

২৪. ব্রোকোলি: এটি ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কারণ এটি দেহে মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যালফাঙ্কশন প্রতিরোধ করে।

২৫. মাছ: ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।