‘তার হাসিটা পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খানের হাসির মতন মনে হলো’

তার হাসিটা পাকিস্তানের- বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় কলেজপড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাহেব বললেন, ভারতে এক্সিডেন্ট হয় কই কেউ তো কোনো কথা বলে না, এ কথা বলে আবার হাসেন। তার হাসিটা আমার কাছে মনে হলো, পাকিস্তান আমলে ইয়াহিয়া খানের সেই হাসি।’

তিনি বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান যখন বাংলাদেশে অত্যাচার চালায়, যে হাসি দিয়েছিল, আজকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মুখে আমরা ওই হাসি দেখতে পাই।’

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন : জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়া নাগরিক ফোরাম (জিনাফ) নামের একটি সংগঠন।

আব্বাস বলেন, ‘শাজাহান খানরা পরিবহন সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এই শ্রমিকদের কন্ট্রোলের বাইরে নিয়ে গেছেন। নব্বইয়ের দশকে আমি যখন সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি ছিলাম তখন ড্রাইভার-হেল্পারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। ওই সময় শাজাহান খান ও শিমুল বিশ্বাস ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন শ্রমিকের চাঁদা বাড়ানোর জন্য। আমি বলেছিলাম, চাঁদা বাড়ানো যাবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেসব লোকের কাছে আজ পরিবহন ব্যবস্থা। শিশুদের জীবন বাঁচানোর আন্দোলনে সরকার আতঙ্কিত। আমরা যখন স্কুলে লেখাপড়া করেছি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন হয়েছে। আমরা তো রাস্তায় বের হতে পারি নাই।’

স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, যারা হাত তুলেছে তাদের বিচার করতে হবে। বিবেকহীন যে পুলিশ আমার ট্যাক্সের টাকায় বেতন পায় সে আমার সন্তানের গায়ে হাত তুলবে, কলার ধরবে, এটা অসহ্য। এটা সহ্য করা যায় না। তোমার কি বাচ্চা নাই, তোমার কি ভাতিজা নাই, নিজের ঘরের দিকে খেয়াল রাখো, যথাযথ শাস্তি হলে এই অবস্থা হতো না।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশে পারিবারিকভাবে পরীক্ষা করা হয়, মদের দেশেও যারা মদ খায় তাদের গাড়ি চালাতে দেয়া হয় না। আমাদের দেশের ড্রাইভারদের অবস্থা কেউ জানে না।’

সরকারবিরোধী এই নেতা বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের ছেলেদের সঙ্গে প্রতারণা করা হলো। একজনের হাত ভাঙা হচ্ছে, পা ভাঙা হচ্ছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনের নেতা আরিফের লাশ বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার হলো। একের পর এক শোক জাতির জন্য বয়ে আনছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কাটি হাতুড়ি মার্কা হওয়া উচিত। হাতুড়ি দিয়ে পা ভেঙে টুকরো টুকরো করছে। মানুষ কিংবা কোনো রাজনৈতিক দল পৃথিবীর ইতিহাসে এমন করেছে কি না আমার জানা নাই। আজকে হিটলার বেঁচে থাকলেও লজ্জা পেতেন।’

আব্বাস বলেন, ‘দেশনেত্রীর খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ দেশের ৯০ভাগ মানুষ। আওয়ামী লীগের অত্যাচারে আওয়ামী লীগের নিম্নস্তরের নেতাকর্মীরাও অতিষ্ঠ। তারাও আওয়ামী লীগের পরিবর্তন চায়, এই সরকারের পরিবর্তন চায়। এই সরকারকে আর কেউ পছন্দ করে না।’