Wednesday , January 16 2019
Home / অপরাধ / পার্কে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে দেহ ব্যবসা

পার্কে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে দেহ ব্যবসা

যশোরের শার্শার উলাশি নীলকুঠি ফ্যামিলি পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসির অভিযোগ দেহ ব্যবসা চলছে এ নিলকুঠি জঙ্গল পার্কে।এতে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করায় পার্কটিতে অসামাজিক কাজ বেড়েগেছে ।

স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদেরও দেখা যায় নিলকুঠি পার্কে। অভিডোগ পার্কের মালিক ও তার কর্মচারীরা পার্কে বেড়াতে আসা ছেলে মেয়েদের ঘরে থাকার সুযোগ করে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ ও কোমলমতি ছেলে মেয়েরা। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। জনমনে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। দাবী উঠেছে অবিলম্বে পার্কটি বন্ধ করা হোক।

স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগ প্রতিদিন যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, ঝিকরগাছা, নাভারন, বেনাপোল,শার্শাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেকলোক বেড়াতে আসে। এই সাথে এলাকার উঠতি বয়সের স্কুল, কলেজ গামী ছেলে মেয়েরা বেড়ানোর নামে ভাড়াঘরে অসামাজিক কাজে লিপ্তহয়।

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে পার্কের আড়ালে এ অবৈধ কারবার। নীলকুঠি পার্কের গেটে বসে থাকা স্থানীয় বজলুর রহমান বলেন,বিভিন্ন জায়গা হতে লোকজন উলাশী বাজার বাস থেকে নেমে নিলকুঠি জঙ্গলপার্কে চলে আসে। এক দুই ঘন্টা বেড়ানোর পরে আবার চলে যায় এরা । এখানে পার্কের ভিতরে ছোট ছোট করে ঘর করা আছে। আবার দোকানের ভিতর ছোট ছোট রুম করা আছে। সেখানে স্বামীস্ত্রীর পরিচয়ে অনেকে খোশগল্প করে ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্কের এক কর্মচারী বলেন, যারা মেয়ে নিয়ে আসে তাদের নিকট থেকে ঘর ভাড়া বাবদ ঘন্টায় ১ হাজার টাকা নেয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় পার্কের ভিতর অনেক স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ও ছেলেরা ঘরের আসায় লাইন দিয়ে বসে থাকে রুম খালি হওয়ার অপেক্ষায়। পার্কের জনৈক কর্মচারী বলেন, এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে কোন সমস্যা নেই । দেখেন না মেয়ে ছেলেরা লাইন দিয়ে বসে আছে তাদের ঘর দিতে পারছি না।

বোঝেনতো পার্ক হচ্ছে বিনোদনের জায়গা। পার্কে ছেলেমেয়েরা গল্পগুজব না করলে পার্ক চলবে কি করে। স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী বলেন, শার্শার উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা শুধু মাত্র পার্কের কারনে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসির দাবী পার্কে অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধরাখা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে পার্কের মালিক তরিকুল ইসলাম মিলন বলেন, পার্কে অবৈধ কোন কাজ হয় না। অভ্যন্তরিন কোন্দলে বেনাপোল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন পার্কটি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেনাপোলের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আরও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। ছোট খাট বিষয় ভাবার কোন সুযোগ নেই।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান বলেন, পার্কের মূল ফটক ছাড়া বাকী অংশ ঝিকরগাছা থানার মধ্যে পড়ে। যার কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্ধর্তন কর্ত্তপক্ষের সাথে আলোচনা করে তাদের দিক নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক বলেন, পার্কটি শার্শা থানার মধ্যে হলেও দুই থানার মধ্যে আলোচনা করে অবিলম্বে অভিযান চালানো হবে। ইতোমধ্যে খোজ খবর নেয়ার জন্য শিওরদাহ পুলিশ ফাড়িকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।