Wednesday , January 16 2019
Home / স্বাস্থ্য টিপস / বিভিন্ন রকম রোগ থেকে দূরে রাখে এই খাবারগুলো !

বিভিন্ন রকম রোগ থেকে দূরে রাখে এই খাবারগুলো !

যদি বলা হয়, খাদ্যাভাস নির্ধারণ করবে আপনার শারীরিক সুস্থতা তবে কি বিশ্বাস করবেন? অথবা বলা যেতে পারে, সঠিক খাদ্যাভাস বিভিন্ন ধরণের ছোট এবং বড় রোগ থেকে আপনাকে রাখবে নিরাপদ দুরত্বে। এটা কিন্তু কোন মনগড়া কথা নয় একদমই!

কোন কোন খাবার খেলে কোন রোগটি থেকে আপনি দূরে থাকতে পারবেন এবং কেনো, সকল কিছুই বিভিন্ন বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামীদামী সকলে গবেষকেরা গবেষণা করে বের করেছেন এবং প্রকাশ করেছেন কারণসহ। এই ফিচার থেকে জেনে নিন এমন দারুণ আটটি খাবারের নাম, যা আপনাকে সুস্থ রাখবে বিভিন্ন রকম রোগের হাত থেকে।

ওবেসিটি থেকে দূরে থাকতে লেবু খান

অতিরিক্ত বেশী মোটা হয়ে যাওয়া এবং অনেক বেশী ওজন হয়ে যাওয়াকে ওবেসিটি বলা হয়। কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ, ডায়বেটিস এমনকি ক্যান্সার (ব্রেস্ট, ওভারিয়ান, প্রোস্টেট, গলব্লাডার, কিডনি, লিভার এবং কোলন) এর মতো ভয়াবহ সকল রোগ ওবেসিটি থেকে হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে (WHO) ২০১৪ সালে ১.৯ বিলিয়ন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ওজন অতিরিক্ত পরিমাণে বেশী দেখা গেছে এবং এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।

২০১৬ সালের ‘জার্নাল অফ আয়ুর্ভেদ এন্ড ইন্টেগ্রেটিভ মেডিসিন’ তাদের এক স্টাডিতে জানিয়েছে, চার দিনের উপবাস শেষে পানিতে লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের অতিরিক ওজন, বডি মাস ইনডেক্স, টোটাল সিরাম ট্রাইগ্লিসারিন সহ নানা রকম শারীরিক সমস্যার জন্যে খুব কার্যকরি হিসেবে দেখা দেয়। এই পানীয় পান করার ফলে ওবেসিটি এবং হাইপারট্রাইগ্লিসেরিডেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে হলুদ

এক অথবা একাধিক হাড়ের জয়েন্টের সমস্যা, প্রদাহ এবং ব্যথা হওয়ার মাধ্যমেই আর্থ্রাইটিসের সমসস্যা প্রকাশ পায়। মূলত প্রায় ১০০ রকমের আর্থ্রাইটিসের সমস্যা হয়ে থাকে, যা আক্রান্ত হাড়ের জয়েন্টে ভয়াবহ মাত্রার ব্যথা তৈরি করে।

শত বছর আগে থেকেই আর্থ্রাইটিসের সমস্যার জন্যে ভেষজবিদ্যায় হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদে রয়েছে ‘কারকিউমিন’ যা একটি প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। এছাড়া হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলস ধ্বংস করে যা কোষের জন্য ক্ষতিকর।

২০১৬ সালে মেটা-এনালাইসিস জার্নাল অফ মেডিসিন ফুড রিপোর্টে বলে যে, আর্থ্রাইটিস এর চিকিৎসায় হলুদের ব্যবহার সায়েন্টিফিক্যালি প্রমাণিত। যদিও, অনেক বিজ্ঞানীদের মতে, এখনও এই বিষয়ে অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে বীট

ইদানিং প্রচুর মানুষের রক্তের যে সাধারণ সমস্যাটি দেখা যায় তার নাম অ্যানিমিয়া। এই সমস্যাটি তখনই দেখা যায় যখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ অনেক বেশী কমে যায়। WHO এর মতে ১.৬২ বিলিয়ন মানুষ অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত, যা পুরো বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪.৮ শতাংশ!

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে বীট খুব উপকারী একটি খাদ্য। বীটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ যা রক্তের রেড সেলকে পুনরায় জন্মাতে সাহায্য করে। খেতে সুস্বাদু এবং অনেক বেশী পরিমাণে ভিটামিন-সি তে ভরপুর বীট খেতে পারেন যেকোন সময়ে।

২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ নার্সিং এন্ড রিসার্চ এর রিপোর্ট থেকে প্রকাশিত হয় যে, বীট এর রসের সাথে গুড় মিশিয়ে খেলে রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দই

উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয়ে থাকে সাইলেন্ট কিলার। এই এক উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে কিডনির রোগ এবং স্ট্রোক এর মতো বড় ধরণের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।

কিন্তু আপনি যদি আপনার উচ্চ রক্তকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তবে নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এবং হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী কিছু উপাদান রয়েছে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।

যে কারণে প্রতিদিন অন্তত আধা-কাপ পরিমাণ দই খাওয়া উচিৎ যা আপনার উচ্চ রক্তচাপের সম্ভবনা কমিয়ে আনে অনেকখানি। চাইলে আপনি দইয়ের সাথে পছন্দের ফল যোগ করে খেতে পারেন, সেটি আপনার শরীরের জন্য আরো বেশী উপকারী হবে।

কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রিন টি

শরীরে অন্যান্য সকল উপাদানের মতোই কোলেস্টেরল এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কিন্তু এর মাত্রা যদি আপনার শরীরে অনেক বেশী হয়ে যায় তবে হার্ট এর অসুখসহ নানা ধরণের অসুখের সম্ভবনা দেখা দিতে শুরু করে।

তবে আপনার শরীরের কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দুধ চা অথবা কফি খাওয়ার বদলে গ্রিন টি পাণ করা শুরু করে দিন। গ্রিন টিতে থাকা বেশ কিছু উপাদান খাদ্য উপাদান থেকে কোলেস্টেরল গ্রহনে বাঁধা প্রদান করে থাকে বলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ভালো কোলেস্টেরল এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রসুন

যদি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয় অথবা খুব একটা ভালো না হয়, তবে দেখা যাবে যে আপনি খুব ঘন ঘন ঠান্ডা এবং ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন, দূর্বল বোধ করছেন এবং বিভিন্ন ধরণের রোগ খুব সহজেই আপনাকে কাবু করে ফেলছে। যার প্রধান কারণ, আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দূর্বল এবং আপনার শরীরের শক্তিও খুব কম- যার ফলে আপনার শরীরের খারাপ জীবাণুগুলো বিপক্ষে খুব বেশী সময় প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিতে পারে না।

রসুন এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক ভালভাবে সাহায্য করতে পারে। রসুন খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আস্ত একটি রসুনের কোষে থাকে অ্যালিন নামক একটি উপাদান। যখন রসুনের কোষকে চিবিয়ে খাওয়া হয় তখন সেই অ্যালিন থেকে অ্যালিসিন নামক একটি উপাদানে পরিণত হয়। এই অ্যালিসিনে রয়েছে সালফার, যা রোগ প্রতিরোধ করারা জন্যে দারুণভাবে কাজ করে থাকে।

২০০১ সালে অ্যাডভান্স ইন থেরাপির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন এক কোয়া করে রসুন খেলে ঠাণ্ডা লাগার সম্ভবনা ৬৩% পর্যন্ত কমে যায়!

পেটের সমস্যা অথবা ডায়রিয়াতে কলা খান

পেটের সমস্যা, পেট ব্যথা অথবা ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দিলে কলা খেয়ে ফেলুন। কলাতে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ যা বমি অথবা ডায়রিয়ার ফলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে থাকে। এর সাথে, শরীরে তাৎক্ষনিক শক্তি প্রদান করতেও কলা খুব চমৎকার একটি ফল।

২০০১ সালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরলজির জার্নালে প্রকাশিত হয় যে, কাঁচা কলাতে থাকা পেকটিন ফাইবার বাংলাদেশের শিশুদের ঘনঘন ডায়রিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করে থাকে। যখন আপনি ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগবেন, তখন কাঁচা কলা খাওয়ার চেষ্টা করবেন যা আপনার পেটের সমস্যাকে কমাতে সাহায্য করবে। কাঁচা কলা খেতে চাইলে আগে ১০-১৫ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে এরপর খেতে পারবেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলি

ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট এর মতে, বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে মৃত্যুর জন্যে ক্যান্সারই সবচেয়ে দায়ী! ২০১২ সালে সমগ্র বিশ্বে ১৪ মিলিয়ন নতুন কেস এবং ৮.২ মিলিয়ন ক্যান্সার-সম্পর্কিত মৃত্যুর রেকর্ড নথিভুক্ত করা হয়েছিল। সেই সাথে এটাও হসেব করা হয়েছিল যে, আগামী দুই দশক পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২২ মিলিয়নে!

সকল অবস্থা বিবেচনা করলে যা দাঁড়ায়, ক্যান্সার খুবই ভয়াবহ একটি রোগ এবং এর প্রতিরোধ করাটা সকলের জন্যেই খুব গুরুত্বপুর্ণ। সেজন্য সঠিক খাদ্য সঠিকভাবে খেলে ক্যান্সার হবার সম্ভবনা কমে যাবে অনেকাংশেই। তাই প্রতিবেলার খাবার এর প্ল্যানিংটা করতে এমন কিছু খাবারের সাথে, যা কিনা আপনাকে সুস্থ তো বটেই, ক্যান্সারের হাত থেকে দূরে রাখতেও সাহায্য করবে।

চেষ্টা করবেন সবসময় কপি জাতীয় সবজী খেতে, যেমন- ব্রকলি। ব্রকলিতে থাকা পুষ্টিকর এবং উপকারি উপাদান সমূহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- ব্লাডার, স্তন্য, লিভার, লাং এবং পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরে ভেতরের সকল খারাপ উপাদান সমূহকে বের করে দিতে সাহায্য করে থাকে।

২০১১ সালে অরিগন স্টেট ইউনিভার্সিটির লিনাস পওলিং ইন্সটিটিউট তাদের গবেষণা থেকে জানায় যে, ব্রকলিতে থাকা সালফরাফেন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। তাই, ক্যান্সার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ২-৩ বার দুই কাপ করে ব্রকলি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।