Home / সংবাদ / পদ্ধতি পরিবর্তন করে স্বর্ণের চোরাচালান!

পদ্ধতি পরিবর্তন করে স্বর্ণের চোরাচালান!

পদ্ধতি পরিবর্তন করে- কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না স্বর্ণের চোরা কারবারিদের। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পদ্ধতি পরিবর্তন করে চোরাই স্বর্ণ পাচার করছে তারা। ধরপাকড় কিংবা সাজাতেও থেমে নেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান কারবারের এ সিন্ডিকেটটি।

প্রবাসী বাংলাদেশি, দেশিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট, বিদেশি নাগরিকদের চোরাচালান সিন্ডিকেট না কমে দিন দিন বাড়ছে। স্বর্ণসহ আটকের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানায় (বিমানবন্দর থানায়) সোপর্দ করলেও আটক ব্যক্তিকে সাজা প্রদানের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার শেষ হলেও সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়, আটকের পর থানায় সোপর্দ হলেও সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার কারণে তারাও কোনো তথ্য আদায় করতে পারছেন না। স্বর্ণ বহনকারী বিদেশি নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদে ভাষাগত বিভ্রান্তির কারণে মূল হোতাদের তথ্য বের করতে না পারায় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে সিন্ডিকেট। আর এ সুযোগেই দিনের পর দিন বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান কারবার চালিয়ে যাচ্ছে সিন্ডিকেট।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, আটকের পর বিদেশি নাগরিকরা বাংলা ভাষা না জানার কারণে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু আটক বিদেশি নাগরিকরা এমন ভাব নিয়ে কথা বলছে, যেন তারা ইংরেজিতে কথাই বলতে পারছে না। দু-চারটি ইংরেজি শব্দ ব্যতীত আর কোনো কথা তাদের থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাংলাদেশে এনে চোরাচালানের স্বর্ণ কাকে সাপ্লাই দিচ্ছে কিংবা কার জন্য আনা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর ও দিতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা স্বর্ণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে জানতে চাইলে, নিজেরাই আনছেন বলে দাবি করলেও আড়ালে থাকা হোতাদের কথা বলছেই না ক্যারিয়াররা।

একইভাবে গত রোববার রাত ১০টার দিকে ৭ কেজি স্বর্ণসহ বিমানবন্দরে আটক হওয়া চীনা বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ার নাগরিক চ্যান গি কিয়ংকে আটক করতে সক্ষম হলেও কোনো জবানবন্দি নিতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টম সূত্রে জানা যায়, মালিন্দো এয়ারের একটি ফ্লাইটে চীনা বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ার নাগরিক চ্যান গি কিয়ং ঢাকা আসার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

এ সময় বিমানবন্দরের ১১ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে থাকা মালিন্ডো এয়ারে আসা ওই যাত্রীর চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে অনুসরণ করা হয়। গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের পরে তার কাছে শুল্ককর আরোপযোগ্য পণ্য আছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। তার নিকট কোনো ব্যাগেজ ঘোষণাপত্রও পাওয়া যায়নি। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করা হলে শার্টের নিচে থাকা স্যান্ডো গেঞ্জির ভিতরে একটি ভিন্নধর্মী জ্যাকেট পাওয়া যায়। জ্যাকেটের মধ্যে ৭টি ছোট ছোট পকেট থেকে কার্বন পেপারে মোড়ানো হলুদ স্কচটেপে প্যাঁচানো সাতটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। সোনার বারগুলোর প্রতিটি এক কেজি হিসাবে মোট ওজন সাত কেজি।

এছাড়াও উদ্ধারকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই ঘটনায় ‘দি কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯’ ও ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আটক যাত্রীকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ভাষাগত কারণে তাদের থেকে জবানবন্দি নেওয়া অনেক কঠিন কাজ। তারা ভাষা জানলেও না জানার অভিনয় করে কর্তৃপক্ষের করা প্রশ্ন এড়িয়ে যান। কিছুদিন আগেও ভারতীয় এক নাগরিককে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ভাষা বুঝতে পারেন না বলে জানান।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া বলেন, আটক হওয়া চীনা নাগরিককে তার থানায় সোপর্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ খুব কম পাই। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদের পর থানায় সোপর্দ করলেও বেশিরভাগই সময় সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এদের থানা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। যে কারণে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তেমন কোনো তথ্য আদায় করতে পারি না।